মেইন ম্যেনু

ব্রেক্সিট: দ্বিতীয় গণভোট চেয়ে সাড়ে ৭ লাখ ব্রিটিশের আবেদন

যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকবে না- বৃহস্পতিবারের গণভোটে এটাই বেশিরভাগ ব্রিটিশের রায়। আর ওই রায়ের পর থেকেই মুদ্রাবাজারে শুরু হয়েছে পাউন্ডের দরপতন। ইইউতে না থাকার পক্ষে রায় দেয়া অনেক ব্রিটিশই এখন চাচ্ছে তাদের রায় পাল্টে দিতে।

তবে সেটা কতদূর সম্ভব হবে তা এখনো বোঝা না গেলেও ইতিমধ্যে দ্বিতীয় একটি গণভোটের আহ্বান জানিয়ে খোলা একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি ব্রিটিশ। তাদের ধারণা, আবার একটি রেফারেন্ডাম হলে ইইউতে থাকার পক্ষেই রায় দেবে ব্রিটিশরা।

স্বাক্ষরদাতারা ব্রিটিশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলছে, ইইরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে বা সংস্থাটিতে থাকার পক্ষে যদি ৬০ শতাংশের কম মানুষ রায় দেয় এবং মোট ভোটার যদি ৭৫ শতাংশের কম হয় তবে দ্বিতীয় একটি গণভোট আহ্বান করতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইস্যুতে বৃহস্পতিবারের গণভোটে দেখা যায়, ৪৮ শতাংশ ব্রিটিশ ইইউতে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। আর ৫২ শতাংশ ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। ওই গণভোটে ভোট পড়েছে ৭২ শতাংশ। এরপরই অনলাইনে পিটিশনটি খোলা হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত ওই অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাক্ষরদাতারা বেশিরভাগই লন্ডন, ব্রাইটন, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ এবং ম্যানচেস্টার অঞ্চলের বাসিন্দা।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অনলাইন পিটিশনটিতে যে পরিমাণ হিট পড়েছে তাতে ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইট ক্র্যাশ করেছে। পিটিশনের জনপ্রিয়তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি অবশ্যই সংসদীয় বিতর্কের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তোলা হবে। দ্বিতীয়বার গণভোটের বিষয়টি যুক্তরাজ্যের আইন সমর্থন করে কি না তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট না। অনেকে বলছে, যুক্তরাজ্যের আইনে এ ধরনের বিধান আছে। তবে এখনো ব্রিটিশ আইন কিংবা ইউরোপের কোনো আইনে এ ধরনের বিধান খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয়বার গণভোটের সমর্থকদের অনেকেই ‘গণতন্ত্রের অবমাননাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। একজন টুইটারে লিখেছে, ‘স্পষ্টভাবেই বলা যায়, দ্বিতীয় একটি গণভোট হবে মর্যাদাহানিকর। এটা গণতন্ত্রের প্রতি সম্পূর্ণ অশ্রদ্ধা।’

এ বিষয়ে মে মাসে যখন গণভোট হওয়ার কথা ছিল তখন ইইউ ছাড়ার পক্ষের দলের অন্যতম নেতা নাইজেল ফ্যারাগে বলেছিলেন, যদি তার পক্ষ সামান্য ভোটে হেরে যায়, তবে তিনি দ্বিতীয় একটি গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য চেষ্টা চালাবেন। এছাড়া ফ্যারাগে ব্রিটিশ গণমাধ্যম মিররকে বলেছিলেন, ৫২-৪৮ হারে হার-জিত হলে তা হবে একটি অপূর্ণাঙ্গ ফলাফল। ৩-২ অথবা ৩-১ ব্যবধানে হার-জিত হলে তা পূর্ণাঙ্গ হবে।

যদিও শুক্রবার এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। এদিকে লন্ডনে ইইতে থাকার পক্ষের ভোটারদের খোলা আরেকটি পিটিশনেও বেশিরভাগ ভোটার থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। ১ লাখেরও বেশি লোক লন্ডনকে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে ইইউতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন, ‘লন্ডন একটি আন্তর্জাতিক শহর। আমরা ইউরোপের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ উল্লেখ্য, গণভোটে হেরে ইতিমধ্যে পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।