মেইন ম্যেনু

ব্রেক আপের পর যে ভুলগুলো করেন প্রতিটি নারী!

জীবনটা কোনো প্রেমের মিষ্টি গল্প নয় যে এর প্রতিটি পৃষ্ঠাতেই থাকবে ভালোবাসায় মোড়ানো স্বর্গীয় সুরভীর ছন্দময় কোনো গান। জীবনে অনেকেই আসবে। কাউকে ভালো লাগবে, কাউকে মনে ধরবে, কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হবে। আবার শেষ অব্দি কারো সঙ্গে হয়তো ব্যাপারটা গড়িয়ে চলে যাবে ভালোবাসা অব্দিও।

কিন্তু তারপর? তারপর সকলে সুখে শান্তিতে বাস করিতে লাগিল? না! জীবনের আরো হাজারটা মিথ্যে ধারণার ভেতরে অন্যতম একটি হচ্ছে এটি। কোনো একটা মানুষকে জীবনে পাওয়া মানেই জীবন সুখে শান্তিতে ভরে যাওয়া নয়। কিংবা খানিক সময়ের জন্যে সেটা মনে হলেও সবসময়ের সত্যি সেটা না।

আপনার এক সময়ের ভালোবাসার মানুষটি হয়তো আপনার থেকে দূরে চলে গিয়েছে, বর্তমান সঙ্গীটিকেও হয়তো কয়েক বছর পর নিজের সঙ্গে অনেক বেশি বেমানান বলে মনে হবে আপনার। কিন্তু তাতে কী আপনার হাতটি খালি থাকবে? না! কেউ না কেউ থাকবেই যে পাশে দাড়াবে। হাতটা শক্ত করে ধরার জন্যে। সাহস দেবে, শক্তি দেবে, দেবে ভালোবাসার সেই মায়াভরা সুগন্ধ।

ব্রেক আপের পর খানিক সময়েও জন্যে সবকিছু এলোমেলো মনে হলেও শেষ অব্দি আসলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক হয়ে যায়। ভাবছেন, বলাটা সহজ। সময়টার মুখোমুখি হওয়াটা কঠিন। কিন্তু আপনি কী জানেন ব্রেক আপের পর আপনার করা কিছু ভুল কাজ পুরো কষ্টটাকে আরো বেশি বাড়িয়ে তুলছে, আরো বেশি কঠিন করে তুলছে আপনার জন্যে? জেনে নিন এমনই কিছু ভুল যেগুলো করার মাধ্যমে নারীরা ব্রেক আপের কষ্টকে বাড়িয়ে তোলেন অনেকগুণ।

* সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসরণ
ব্রেক আপের পর খুব স্বাভাবিকভাবেই জানতে ইচ্ছে করে আপনার প্রাক্তন প্রেমিকটি কেমন আছে অথবা একটুও কষ্টে আছে কিনা। আর তাই নারীদের নজর থাকে প্রেমিকের ফেসবুক কিংবা অন্যসব যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। এতে করে কষ্টটা কমে না, বরং বাড়ে। প্রাক্তন প্রেমিকের হাসিমুখের ছবি, তার আনন্দের স্ট্যাটাস কিংবা নতুন প্রেমিকার সঙ্গে ঘোরাঘুরি করার ছবি দেখার ভেতরে নিজেকে কষ্ট দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই।

বন্ধু হতে চাওয়া
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা, আবার ভালোবাসা থেকে বন্ধুত্ব! সমীকরণটা দেখতে সহজ মনে হলেও আসলে এতটা সহজ নয়। বন্ধু থেকে প্রেমিক হওয়া যতটা সহজ, প্রেমিক থেকে বন্ধু হওয়াটা ততটা নয়। কারণ বন্ধুত্ব হয় খুব সহজ কোনো সম্পর্কে থাকা দুজন মানুষের ভেতরে যারা নিজেদের সব কথা একে অন্যকে বলতে পারে। কিন্তু ব্রেক আপের তিক্ততাকে কাটিয়ে সেটা করা কারো পক্ষেই সম্ভব হয়না। বরং উত্তরোত্তর অবহেলায় কষ্টটা আরো বাড়ে।

অপেক্ষা করা
অনেকে সময়কে ব্রেক আপের কষ্ট থেকে মুক্তির উপায় মনে করেন। কিন্তু আদতে সবসময় কিন্তু সেটা নয়। আর তাই অনেকগুলো দিন কেটে যাওয়ার পরেও যদি কষ্ট পেতে থাকেন আপনি কিংবা কান্না করেন অবিরত, তাহলে সময়কে সময় না দিয়ে নিজের মতন করে এগিয়ে যান ভালো থাকতে। দরকার হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

নেশা করা
অনেকেই নেশা করে ভুলে থাকতে চান প্রেমিককে। ভাবেন অতিরিক্ত নেশা প্রাক্তন প্রেমিককে ভুলতে, হতাশা কমাতে আর ব্রেক আপের কষ্টকে দূর করতে সাহায্য করবে। বাস্তবে সেটা কিছুই করেনা। সাময়িক ভালোলাগা দিলেও শারীরিক, মানসিক আর নৈতিক অবক্ষয়ই ঘটায় এটি।

স্মৃতিকে ধরে রাখা
পুরনো সব স্মৃতি যেমন- ছবি, চিঠি অথবা উপহার এগুলোকে আকড়ে ধরে বসে থাকা আর বারবার সেগুলোকে দেখে অতীতের ভালো সময়গুলোর কথা মনে করা, এটি আপনাকে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেনা। কারণ সেগুলো যতক্ষণ আপনি না ছাড়বেন, আপনার অতীতও আপনাকে ছাড়বেনা। প্রতিনিয়ত আপনার কষ্টের কথা মনে করিয়ে দেবে সেগুলো।

গালাগালি করা
অনেক নারী নিজেদের কষ্টটাকে ঝাড়তে প্রাক্তনের মোবাইলে গালাগালি দিয়ে এবং আজেবাজে কথা লিখে ক্ষুদেবার্তা পাঠান। তারা মনে করেন এতে তাদের মনের কষ্ট খানিকটা হলেও দূর হবে। তাদের কষ্টটা একটু হলেও ফেরত দেওয়া যাবে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিককে। কিন্তু যে ছেড়ে গিয়েছে তার আর আপনার কোনো ব্যাপারেই আগ্রহ নেই এটা জেনে নিন। আর তাই আপনি কী বলছেন, কী করছেন সেটা তাকে কোনভাবেই আঘাত করবেনা। যদি করেও থাকে তবে সেটা আপনাকেই!

নতুন সম্পর্ক
কেউ চলে গেলে তার স্মৃতিগুলো, কথাগুলো, যত্ন নেওয়ার সময়গুলো মনে করে কষ্ট পাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। মন আপনার কাঁদতেই পারে একবার ভালোবাসি শব্দটা শুনতে। কিন্তু তাই বলে হুট করে প্রাক্তন প্রেমিকের ওপরে প্রতিশোধ নিতে বা সাময়িকভাবে ভালো থাকতে নতুন কাউকে হ্যাঁ বলে বা ভালোবাসার কথা বলে ফেলবেন না। এতে করে আপনার বর্তমান ভালো কাটলেও ভবিষ্যত ভালো নাও হতে পারে।

তুলনা করা
পুরনো কেউ চলে গিয়েছে বলে নতুন কেউ আসবে না তা না। হতে পারে সে আপনার প্রাক্তন প্রেমিকের মতন না হলেও তার চাইতে অনেক বেশি ভালো। কিন্তু সেটা আপনি তখনই বুঝবেন যখন নতুন কারো সঙ্গে পুরনো প্রেমিকের তুলনা করা বন্ধ করবেন আপনি। যদিও সেটা অনেকেই ব্রেক আপের পর করে থাকেন আর নতুন কাউকে না পেয়ে কষ্টে ভোগেন।

নিজেকে প্রকাশ করা
বর্তমানে সামান্য কিছু হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলে ফেলা কিংবা অন্যদেরকে বলে বেড়ানোর ব্যাপারটা চলে আসে। কিন্তু ভুলেও এ পথে যাবেন না। এতে করে আপনি নিজেকে অনেক বেশি ফেলনা করে ফেলবেন। আর সবার কাছে অনেক বেশি ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরবেন আপনাকে। নিজের কষ্টের কথা নিজের আর খুব আপনজনদের মাঝেই রাখুন। না হয় আজ যে কষ্টটা মনে মনে পাচ্ছেন আপনি, কাল সেটা পাবেন অন্য কারো কথাতেই!

পরিচিত বন্ধুদের কাছে খবর নেওয়া
কে জানে হয়তো আরো অনেক আগে থেকেই বন্ধুরা জানতো যে আপনাদের সম্পর্কটা ভেঙে যাচ্ছে। হয়তো আপনার প্রাক্তন প্রেমিক অনেক আগেই পরিচিত বন্ধুদের জানিয়েছিল সেটা। আর তাই সেই বন্ধুদের কাছে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের সম্পর্কে জানতে চাওয়াটা আরেকটি বড় ধরনের ভুল হয়ে যায় প্রতিটি নারীর জীবনে। এতে করে আপনার প্রাক্তন প্রেমিককে আপনি সুযোগ করে দেবেন হাসবার, মজা নেওয়ার আর আপনাকে আরো কষ্ট দেওয়ার।