মেইন ম্যেনু

ব্রেক আপ হয়েছে? জেনে নিন কী করবেন

‘ফেসবুকে প্রেমিকার ছবিতে কমেন্ট করল এক ছেলে, ‘ওয়াও! তোমাকে সুন্দর লাগছে!’ প্রেমিকা ওই কমেন্ট লাইক করল। কেন লাইক করল, প্রেমিক গেল খেপে! অতঃপর…ব্রেক আপ!

প্রেমিকার বাড়ি সিলেট, প্রেমিকের বাড়ি কুমিল্লা। দেড় বছরের চমৎকার সম্পর্ক তাদের।

প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে মামুন ভাইয়ের টঙের দোকানে চা খাচ্ছিল। চা খাওয়ার সময় প্রেমিক ‘সুড়ুৎ’-টাইপের একটা শব্দ করল। প্রেমিকার পছন্দ হলো না সেটা। অতঃপর…ব্রেক আপ!

প্রেমিক-প্রেমিকা ডেটে গেল। ভরপেট বিরিয়ানি খাওয়ার পর প্রেমিক হাঁ করে টুথপিক দিয়ে দাঁত খোঁচাতে শুরু করল। প্রেমিকার প্রেস্টিজ গেল পাংচার হয়ে। অতঃপর…ব্রেক আপ!’

আজকাল ব্রেক আপ যেন ফ্যাশন এ পরিনত হয়েছে । প্রেম করে সফল হয়েছেন এই ধরণের ঘটনা শুনলে এখন তাজ্জব হয়ে যাই। যেই “কাপল” কে দেখি অনেক দিন প্রেম করে অবশেষে বিয়ে করেছেন, তাদের দেখলে মাঝে মধ্যে এলিয়েন মনে হয়।

বেশীর ভাগ রিলেশন শিপ এখন গড়ে উঠে একটা মোহে পড়ে, প্রথমে কেউই বুঝে না কি করছে বা কি হচ্ছে? পরে একটা
রিলেশন শিপে গভীর ভাবে ঢুকে যাবার পর তাল ফিরে পায়, হায় হায় কি হয়ে গেল? আমার সাথে ওর তো অনেক অমিল, আমাদের ফ্যামিলি তো মেনে নিবে না, এই রিলেশন শিপের ভবিষ্যত নেই! এই সব চিন্তা ভাবনার ফলেই মূলত সমস্যার সূচনা হয়।

এবং একটা সময় এইটা ব্রেক-আপ এ রূপ নেয়।
প্রেম ভেঙে গেছে? কী মনে হচ্ছে এখন? ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে তো? দুঃখের সিনেমা দেখে, প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডকে সেন্টিমেন্টাল মেসেজ পাঠিয়েই কেটে যাচ্ছে সারা দিন। অন্য কিছু ভাবার সময় কোথায় ? জানি সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা কী জিনিস। তবে এ সব বোকা বোকা কাজ কিন্তু এ বার বন্ধ করতে হবে। ব্রেক আপের অবসাদ কাটিয়ে উঠুন।
জেগে উঠুন

আপনি কি সবেমাত্র সম্পর্ক বিচ্ছেদে গিয়েছেন? এজন্য প্রিয় মানুষটিকে ছেড়ে অনেকটাই বিরহে আর হতাশায় আছেন? তা যদি হয়ে থাকে তবে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসুন। ভাবুন হয়ত আপনার সঙ্গে ঠিকভাবে মেলেনি বলেই তা আর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আপনার হতাশাজনক অবস্থা থেকে জেগে উঠুন। পৃথিবীকে নতুন রূপে দেখার চেষ্টা করুন। আশেপাশের সব বিষয়কে নিজের জীবনের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করুন। দেখবেন আপনি ভালো আছেন।

প্রেম সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলান যে সংস্কৃতিতে আমরা বড় হয়ে উঠেছি, যে ধরনের গান শুনেছি, সিনেমা দেখেছি তাতে ছোট থেকেই বিশ্বাস করেছি ‘প্রেম জীবনে এক বারই আসে’। যদিও এই তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। কিন্তু নিজেদের বিশ্বাসের কারণে ব্রেক আপ হলে মনে করি, সব শেষ। এবার এই বিশ্বাস থেকে বের হোন। নিজেকে চিনতে শিখুন।

দুঃখবিলাসে থাকবেন না
ব্রেক আপের পর দুঃখের গান শুনতে ভালো লাগে। দুঃখের সিনেমা দেখে, দুঃখের কোটেশন পড়ে সময় কাটালে আরও বেশি ব্রেক আপ যন্ত্রণার মধ্যে ঢুকে যাবেন। নিজের চারপাশে নেগেটিভিটি তৈরি হবে। আপনার বন্ধু, আত্মীয়রাও বিরক্ত হবে। যদি পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে চান তাহলে অবশ্যই এ সব থেকে দূরে থাকুন।

ব্যস্ত থাকুন যাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটেছে তাদের একটু পর পর প্রিয় মানুষটির কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে কাটানো বিশেষ মুহূর্তগুলো। সুখময় স্মৃতিগুলো। এই স্মৃতি রোমন্থনের হাত থেকে বাঁচতে চাইলে আপনি ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করুন। অফিসে বেশি সময় দিন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, দূরে কোথাও ঘুরতে চলে যান। মনে রাখবেন, যত বেশি ব্যস্ত থাকবেন তত বেশি ভালো থাকবেন।
একা থাকবেন না
ব্রেক আপের পর আমরা নিজেদের গুটিয়ে নিই। আড্ডা, পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখে একা সময় কাটাতে চাই। এভাবে কিন্তু সমস্যা আরও বাড়বে। একা একা দুঃখ করলে আরও বেশি আবসাদের গভীরে চলে যাবেন। সবার সঙ্গে সময় কাটান।
কাঁদুন
যদি কান্না পায় তাহলে যত খুশি কাঁদুন। প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি রাগে বা নিজেকে জোর করে শক্ত দেখানোর জন্য কান্না চেপে রাখবেন না। কাঁদলে অনেক হালকা লাগবে।
যোগাযোগ বন্ধ রাখুন
প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ রাখুন। ফোন, টেক্সট থেকে বিরত থাকুন। আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড তত্ত্বে বিশ্বাস রাখুন এই সময়।
স্মৃতি আঁকড়ে থাকবেন না
অনেকে প্রাক্তন সঙ্গীর ছবি, জামা সঙ্গে নিয়ে ঘুমোতে যান। এসব ফিল্মি কাজ ছাডুন। মায়া কাটাতে হবে। এসব স্মৃতি ফেলে দিন।
সম্পর্কে নির্ভরতা কাটান
সম্পর্কের ওপর নির্ভরতা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সম্পর্কটাই যখন নেই তখন নির্ভরতা করবেন কীসের? জীবনে প্রেমই এক মাত্র নয়। আরও অনেক কিছু রয়েছে।
জীবনকে অন্য ভাবে দেখুন
আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়বেন না। প্রেম চলে গিয়েছে মানে জীবন থেকে ভালোবাসা কিন্তু চলে যায়নি। আপনার বন্ধু, পরিবার, আত্মীয়রাও আপনাকে ভালোবাসে। তাদের কথা ভাবুন। জীবনের আনন্দের দিক, ভালো দিকগুলোর দিকে মন দিন।
হুট করে সম্পর্কে জড়াবেন না
অনেকে প্রেম ভুলতে নতুন সম্পর্কে জড়াতে চান। এটা সব থেকে ভুল সিদ্ধান্ত। একটা সম্পর্ক পুরোপুরি কাটিয়ে না উঠে অন্য সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়। এসব রিবাউন্ড সম্পর্ক কখনই টিকে না। কিছু দিন একা থাকুন। নিজেকে চিনুন। তবেই আপনি সঠিক সঙ্গী বেছে নিতে পারবেন।
প্রয়োজনে বিয়ে করে ফেলুন

আপনার সম্পর্ক বিচ্ছেদে হয়ত আপনার অনেক কষ্ট হচ্ছে, কিছুতেই ভুলতে পারছেন না একসঙ্গে অতিবাহিত হওয়া সুমধুর সময়গুলো। এক্ষেত্রে আপনি প্রয়োজনে বিয়ে করে ফেলতে পারেন। বিয়ে করলে আপনার জীবনে আরেকজন নতুন সঙ্গী আসবে। তার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটালে দেখবেন আপনি তাকেও অনেক ভালোবেসে ফেলেছেন। ফলে প্রতিশোধের মত জঘণ্য অপরাধ থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রতিশোধ নিবেন না
নিজেকে ভালো মানুষ করে উপস্থাপন করুন। হতে পারে আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাকে ভুল বুঝে চলে গিয়েছে, তাই বলে তার ওপরে প্রতিশোধ নিবেন এটা কখনই তাকে সত্যিকারের ভালোবাসার লক্ষণ নয়। এমন হলে তাকে আপনি সত্যি সত্যি কখনই ভালোবাসেননি। এজন্য নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে জাহির করুন। সৎ থাকুন।

এইটা একটা কমন ফিনোমেনা যে আপনি ভাবতে পারেন সে কেমন আছে? কাকে নিয়ে আছে? সুখী আছে তো? এইসব ভেবে অনেক বার ছুটে যেতে চাইবেন যে একবার খবর নিয়েই দেখি।

কেন খবর নিবেন? ভালোবাসার কাজটা তো আপনি একা করেন নাই, আপনি একা কেন মাথা ঘামাবেন? সে যদি ভালো থাকতে পারে আপনাকে ছাড়া অবশ্যই আপানাকেও পারতে হবে। ধরে নিন যার সাথে যেভাবে আছে সুখেই আছে। এক্ষেত্রে বলে নেয়া ভালো যে আপনি নিজের মেন্টাল

স্যাটিসফ্যাকশনের জন্য সবকিছু শেষ হবার আগে লাস্ট এটেম্পট নিয়ে দেখবেন একান্তই নিজের পক্ষ থেকে সেটাও যদি কাজ না হয় তাহলে আর তো কিছু করার নেই, এট লিস্ট আপনার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন; ইট জাস্ট ডিন্ট ওয়ার্ক