মেইন ম্যেনু

ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম সত্যিই আছে!

হৃদরোগ নারী-পুরুষ সকলেরই হয়, তবে নারীদের হৃদরোগের সমস্যা পুরুষের হৃদরোগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। নারীদের মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হৃদরোগ এবং ২৯-৪৫ বছরের নারীদেরই হতে দেখা যায় বেশি। ভালোবাসায় ব্যর্থ হলেই হৃদয় ভেঙ্গেছে বলা হয়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানেও হৃদয় ভাঙ্গার লক্ষণ বা ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম নামে একটি সমস্যার উল্লেখ আছে যা নারীদের ক্ষেত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম সহ নারীদের হৃদরোগের যে ৫ টি সমস্যা হয়ে থাকে সে বিষয়েই জানবো আজকের ফিচারে।

১। টেম্পোরারি করোনারি আর্টারি স্পাজম

হৃদরোগ নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের হয়। নিউ ইয়র্ক – প্রেসবিটারিয়ান হসপিটাল / বেইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারের রোনাল্ড ও পেরেলম্যান হার্ট ইন্সটিটিউটের প্রচার ও শিক্ষা পরিচালক, এমডি হলি অ্যান্ডারসন বলেন, ‘বড় ধমনীতে ব্লকেজ হওয়া ছাড়াই নারীদের হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়’। হঠাৎ করে করোনারি ধমনী সরু হয়ে গেলে বা করোনারি ধমনীতে খিঁচুনি হলে টেম্পোরারি করোনারি আর্টারি স্পাজম হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। এধরণের খিঁচুনির ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে এবং তীব্র বুকে ব্যথার লক্ষণ দেখা যায় যা ৫ থেকে ৩০ মিনিট থাকতে পারে।

২। ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম

নামটা শুনে অবাক হচ্ছেন! হ্যাঁ ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম হয় নারীদের যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টাকোটসুবো কার্ডিওমায়োপেথি বলে। ডা. অ্যান্ডারসন এর মতে, নারীদের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণরুপেই হয়ে থাকে। তিনি বলে, ‘আমরা এটাকে পুরোপুরি বুঝতে পারিনি’, আবেগীয় বা শারীরবৃত্তিয় চাপের ফলে নরপাইনফ্রাইন নামক অ্যাড্রেনাল হরমোনের প্রকাশের কারণে হতে পারে এটি, এটি হৃদপিণ্ডকে পুরোপুরি অচেতন করে দেয়। পুরুষের তুলনায় নারীদের হৃদরোগ হওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্রেস একাই অনেক বড় রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

৩। SCAD

স্পন্টেনিয়াস করোনারি আর্টারি ডিসেকশন এর সংক্ষিপ্ত রুপ হচ্ছে SCAD। নারীদের প্রসবের সময় এটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে যখন সংযোজক কলা আলগা হওয়ার প্রবণতা থাকে। অ্যান্ডারসন বলেন, সব কিছুই প্রসবকে সহজ করার জন্য ঢিলা হতে থাকে। SCAD হলে ধমনীর মধ্যবর্তী অংশের সংযোজক কলা ছিঁড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের মতোই লক্ষণ দেখা যায়। এটি লক্ষ্য নাও করা হতে পারে কিন্তু নারীরা এটি বুঝতে পারেন। ডা.অ্যান্ডারসন বলেন,’গর্ভাবস্থা হৃদয়ের জানালা’। যদি আপনার গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রিএক্লাম্পশিয়া অথবা অপরিণত প্রসব হয় তাহলে আপনার ভবিষ্যতে হৃদপিণ্ডের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

৪। করোনারি মাইক্রোভাস্কুলার ডিজিজ

আপনি হয়তো ভাবছেন যে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী সবচেয়ে বড় ধমনীটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ছোট ছোট ধমনী গুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ডা. অ্যান্ডারসন বলেন, যদিও এই সমস্যাটি ভালোভাবে বোঝা যায়না এবং তরুণীদেরই বেশি হয়ে থাকে, ছোট ছোট রক্তনালীগুলো আবদ্ধ হয়ে গেলে হৃদপিন্ডের পেশীতে রক্ত পৌঁছে না। এটি নির্ণয় করাও বেশ কঠিন এবং একটি উপসর্গ হচ্ছে বুকে ব্যথা হওয়া যা ১০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। করোনারি হার্ট ডিজিজের ক্ষেত্রে এটি ৫ মিনিট বা তার কম সময় পর্যন্ত থাকে। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন এর মতে, বুকে ব্যথা হওয়া ছাড়াও শ্বাসকষ্ট, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি অথবা শক্তির ঘাটতির মত লক্ষণগুলোও থাকতে পারে। এ ধরনের ব্যথাকে অনেকে হার্ট অ্যাটাক বলে ভুল করেন।

৫। অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন

আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে, এই ধরনের সমস্যার কারণে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায় যা স্ট্রোকের ঝুঁকি ৫ গুণ বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, ৭৫ এর বেশি বয়সের মানুষের হয়ে থাকে এই সমস্যাটি যাদের বেশীরভাগই নারী। AFib ( অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন) এ মৃত্যুর হার এবং এর জটিলতা পুরুষের চেয়ে নারীদেরই হয়ে থাকে বেশি। যদিও AFib কে এখনো গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় না। এর লক্ষণগুলো হচ্ছে – ক্লান্তি, অনিয়মত হৃদস্পন্দন, মাথাঘোরা, ঘামানো এবং বুকে ব্যথা হওয়া। এগুলোর কোনটি লক্ষ্য করলেই আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

শুধু বুকে ব্যথাই সব নয়

পুরুষের তুলনায় নারীদের লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হয়। ডা. অ্যাান্ডারসন বলেন, ৪০ শতাংশ নারীরই বুকে ব্যথা হয়না, কিন্তু তারা বুঝতে পারেন যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। যদি শ্রমসাধ্য কোন কাজ যেমন- সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বুকে, চোয়ালে বা বাহুতে ব্যথা হয় অথবা আবেগিয় মর্মপীড়ায় ভোগা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে রোগের সূত্র হিসেবে ধরে নিতে পারেন। ডা. অ্যান্ডারসন বলেন, এগুলো শুধু একবারই হয় না বরং বারবার হয়। এছাড়াও নারীরা বুকে চাপ অনুভব করতে পারেন, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, মাথা ঝিমঝিম করা ইত্যাদি উপসর্গগুলোও অনুভব করতে পারেন। আপনার বুক জ্বালাপোড়া করা বা বদহজমের সমস্যাও থাকতে পারে।