মেইন ম্যেনু

ব্লগার রাজীব হত্যা : আপিলের রায় যেকোনো দিন

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের করা ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রায় ঘোষণা করা হবে যেকোনো দিন।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর ২২ দিন শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির,সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা। অপরদিকে আসামিদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজাক খান, মোশাররফ হোসেন কাজল ও মো. আহসান উল্লাহ ।

আইনজীবীরা জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাওয়া দুজনের মধ্যে পলাতক আসামি রানা আপিল করেননি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর এক আসামি ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপসহ সাতজন আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে অপর সাত আসামির আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এখন যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি গ্রহণ শুরু হয়। আলোচিত এই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের ১০ মাসের মাথায় হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ আপিল শুনানি শুরু হয়।

চার বছর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ রায় দেন। রায়ে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসিমুদ্দিন রাহমানীসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

আসামিদের মধ্যে মাকসুর হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে এবং আনসারুল্লা বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিমুদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। জসিমুদ্দিন রাহমানী ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

নিম্ন আদালতের রায়সহ মামলার নথিপত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশনা দেন। পেপারবুক প্রস্তুত করে সরকারি ছাপাখানা থেকে আসার পর প্রধান বিচারপতি ওই বেঞ্চে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পাঠান। তারপর গত বছরের ৩১ অক্টোবর ওই বেঞ্চের তালিকায় ওঠে শুনানির জন্য।