মেইন ম্যেনু

বড় কমিটির কারণে অন্তকোন্দল সৃষ্টি হবে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তার জাতীয় সম্মেলনের চার মাস পর নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে। নাম ঘোষণার পরপরই এ থেকে পদত্যাগ করেছেন খালেদা জিয়ার পরিবারের ঘনিষ্ট সহযোগী মোসাদ্দেক আলী ফালু। কমিটিতে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদেরের ছেলে ও একই অপরাধে দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবারের বেশ কয়েকজন। শোনা যাচ্ছে ৫০২ সদস্যের এই কমিটি নিয়ে দলের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এতদিন পর কেন এতবড় কমিটি ঘোষণা করা হল?

বিএনপির কমিটি ঘোষণার বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমানুল্লাহ কবীর। তিনি বলেন, বিএনপি একটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল যার কারণে নতুন কমিটি করতে সময় লেগেছে। খুবই মজার একটি ঘটনা, বিএনপির লিডারশিপ চীফ লিডারশিপ। এর এক অংশ থাকে গুলশানে আরেক অংশ থাকে লন্ডনে। আরেকটা বিষয় হল দলটি সরকারের বিভিন্ন চাপ জেল-জুলুমের মধ্যে ছিল। যার ফলে তারা সেইভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারেনি বা সংগঠিত করতে পারেনি। সবমিলিয়ে একটা হ য ব র ল অবস্থার মধ্যে ছিল।

কমিটিতে নাম আসার পরপরই ফালু কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং আরও একজন কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কমিটি গঠনের পরপরই এরকম প্রতিক্রিয়ার কারণ সম্পর্কে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, মোসাদ্দেক আলী ফালু সাহেব বেগম খালেদা জিয়ার অনেক ঘনিষ্ট এবং বিশ্বাসী লোক, কমিটি থেকে তার পদত্যাগে সবাইকে বিস্মিত করেছে। শামীমুর রহমানও পদত্যাগ করেছে। এখানে কতগুলো ঘটনা ঘটেছে যেমন, অনেক নেতার দলীয় অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নোমান সাহেব স্থান পাননি। বরং তার চেয়েও জুনিয়র যারা তারা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে স্থান পেয়েছে। সুতরাং এসব ব্যাপারে কিছু ক্ষোভ রয়ে রয়েছে।

এই কমিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ড পেয়েছেন এমন ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা আছেন। যুদ্ধাপরাধের ঘনিষ্ট বলে বিএনপিকে সমালোচনার শিকার হতে হয় এই বিষয়টা সেটাকে উস্কে দিবে কিনা এর উত্তরে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, এটা নিঃসন্দেহে উস্কে দিবে এবং বিএনপি এখানে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। বিএনপি যখন জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে সেখানে জামায়াতকে সঙ্গে রাখার কারণে সেভাবে সাড়া পাচ্ছে না। এখন যদি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের ঘনিষ্ট স্বজনদের কমিটিতে রাখে তাহলে এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

৫শ’র বেশি সদস্য নিয়ে নির্বাহী কমিটি করা হয়েছে। এত বড় কমিটি দলের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এত বড় কমিটি গঠন করা কতটা যৌক্তিক সে সম্পর্কে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, বলা হয়, অতি সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট, এখানে সেরকম অবস্থাই হবে। ৫শ’ সদস্যের কমিটি করার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। কমিটি যত ছোট হবে, কমিটি তত সক্রিয় হবে, তত কার্যকর হবে। এতবড় কমিটি করার ফলে এই কমিটির ভিতের যে অন্তকোন্দল সৃষ্টি হবে, সেই কোন্দলের কারণেই বিএনপি সামনে এগুতে পারবে না। এই কোন্দলের কারণে কমিটি কতটা কার্যকর হতে পারবে সেটা নিয়ে নানানভাবে প্রশ্ন উঠবেই।

নতুন কমিটিতে দলের নেতাদের পরিবারের ডজনখানেকের বেশি সদস্য কমিটিতে স্থান পেয়েছে এটা কোন বিশেষত্ব রাখবে কিনা সে সম্পর্কে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, এইযে পরিবারতন্ত্র এটা বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে রয়ে গেছে। যার ফলে দলের মধ্যে যারা ত্যাগী, খারাপ সময়ে দলের পাশে থেকেছে, কাজ করেছে তারা কমিটিতে স্থান পাবে না। কমিটিতে স্থান পাবে দলের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা।