মেইন ম্যেনু

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীদের নিরাপত্তার অভাবেই বাড়ছে বাল্যবিবাহ

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার থেকে: মেয়েদের স্কুল কলেজের সামনে উঠতি বয়সের ছেলেদের আড্ডা। বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে আকর্ষণ প্রকাশ বা অপ্রীতিকর মন্তব্য করাকেই বলা হয় ইভটিজিং বা উত্যাক্ত করা। যাতে হাই কোর্টের এক রায়ে যৌন হয়রানী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানসিক চিকিৎসকদের মতে ইভটিজিং এর কারণে বয়ঃসন্ধির সময় এমনিতেই স্কুলগামী কিশোরীরা নিরাপত্তাহীনতার বোধ থেকেই মানসিকভাবে দুর্বল থাকে।

কন্যা শিশু অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের মতে শুধু ইভটিজিং নয় দেশের প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কিশোরীদের হয়রানী। দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তির দেওয়ার দাবী জানান তারা।

কক্সবাজার নারী জাগরণ সমিতির সভানেত্রী রোকসানা খাতুন বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে স্কুলগামী কিশোরীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণেই অভিভাবকরা আগ্রহী হয়ে উঠেন তাদের কন্যা শিশুকে বাল্য বিবাহ দিতে। কিশোরীদের নিরাপদ পথচলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্কুলে একটি অভিযোগ বাক্স চালু করা উচিৎ বলে মনে করেন এই নারী নেত্রী।

তিনি আরও বলেন, এই কারণেই গত কিছুদিন যাবৎ কক্সবাজারে বেড়ে গেছে বাল্য বিবাহের প্রবনতা।
এধরনের একটি ঘটনা উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা গ্রামের টিটু বড়ুয়ার কিশোরী কন্যা বৃষ্টি বড়ুয়া (১৫) মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য প্রকাশিত জেএসসি পাস করা মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে জোর পূর্বক তার মা-বাবা বিয়ের দিতে চাইলে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের বাল্য বিয়ের খবর জানালে সাংবাদিকরা কিশোরী বৃষ্টির বাল্য বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলে, উপজেলা জুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন পুলিশকে নির্দেশ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এ সময় ২ পরিবারের লোকজন গ্রেফতারের ভয়ে বিয়ে বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে অসচেতনতার পাশাপাশি বিদ্যমান কুসংস্কারের কারণে মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে কিশোরীরা। অতিরিক্ত রক্ষণশীলতার কারণে তাদের সমস্যাগুলো যেমন তারা পরিবারের কারো কাছে বলতে পারে না, তেমনিভাবে উত্যাক্তকারীরা জড়িয়ে পড়েন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

এ অবস্থায় বাল্য বিবাহের বিষয়গুলো নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারনা ও জনমত সৃষ্টি করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।