মেইন ম্যেনু

বয়স্ক মায়ের সন্তান স্বাস্থ্যবান ও শিক্ষিত হয়!

অল্প বয়সী নারীদের তুলনায় বয়স্ক মায়ের সন্তান বেশি স্বাস্থ্যবান ও লম্বা হয় এবং অধিক শিক্ষা অর্জন করে। নতুন এক গবেষণায় এমনটিই দাবি করা হয়েছে।

গবেষকরা বলেন, বেশি বয়সে নারীদের সন্তান জন্মদানে জৈবিক ঝুঁকির আশঙ্কার চেয়ে সুবিধাই বেশি। এর প্রমাণ শিল্পোন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন স্বাস্থ্যবান হচ্ছে।

পূর্ববর্তী গবেষণায় বলা হয়েছিল, বেশি বয়সী নারীরা যখন সন্তান প্রসব করেন, এরপর তাদের শিশুদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ (এমপিআইডিআর) গবেষকরা বলেন, বিলম্বিত সন্তান জন্মদানে ঝুঁকি থাকলেও শিশুরা বড় হলে সুবিধা পেতে পারে। বিভিন্ন দেশের গণস্বাস্থ্য ও সামাজিক উভয় অবস্থাই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন মা-বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায়, বিলম্বিত সন্তান প্রসব মানে হলো, শেষ সময়টাতে সন্তান জন্ম দেয়া। উদাহরণস্বরূপ, সন্তান জন্মদানে দশ বছরের পার্থক্য সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থারও পরিবর্তন হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, নারীদের বিলম্বে সন্তান প্রসব শিশুদের স্বাস্থ্যবান, লম্বা এবং আরও বেশি উচ্চশিক্ষিত করে।

এমপিআইডিআরের কর্মকর্তা মিকো মিরস্কিলা বলেন, “ধরুন একজন নারী ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেছে। ২০ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে তার প্রথম সন্তান হয়। যদি একই নারী ৪০ বছরে আরেকটি সন্তান জন্ম দেয় তাহলে সে সন্তান জন্ম দেবে ১৯৯০ সালে। এই ২০ বছর বিশাল পার্থক্য তৈরি করে। একটি শিশু ১৯৯০ সালে জন্মগ্রহণ করা মানে তার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সম্ভাবনা ২০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করা শিশুর তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষকরা ১৯৬০ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা ১৫ লাখ সুইডিশ নারী-পুরুষের তথ্য পর্যালোচনা করেন। সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, উচ্চতা, শারীরিক সুস্থতা, সন্তানদের হাইস্কুলের নম্বর এবং লেখাপড়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষকরা ফলাফলে দেখেন, যেসব মা ৪০ বা তার বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাদের সন্তানরা লম্বা হয়েছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভালো নম্বর পেয়েছে এবং অধিক সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে।

মিরস্কিলা আরও বলেন, বেশি বয়সে নারীরা গর্ভধারণ করলে যে ঝুঁকি থাকে তার চেয়ে সন্তান জন্মদানের সুবিধাটাই বেশি।