মেইন ম্যেনু

বয়স ২৫ হবার আগেই করুন এই কাজগুলো

মানুষের ইচ্ছের কোন শেষ নেই। আকাশের ওপর থেকে শুরু করে সাগরের তলদেশ- সবটা খুঁজে নিজের জীবনকে উপভোগ করতে চায় মানুষ। চায় আরো একটু ভালোভাবে বাঁচতে, ভালোভাবে থাকতে, মনকে খুশি রাখতে। তবে সব ব্যাপার কিন্তু সব সময়ের জন্যে সঠিক নয়। এই অত্যন্ত সত্যি কথাটি অবশ্য বেশিরভাগ মানুষই বোঝে খুব দেরীতে। নিজের হাতের সঠিক সময়টি চলে যাওয়ার পর। সত্যিই মানুষের জীবনের কিছু কাজ রয়েছে যেটা কিনা নির্দিষ্ট একটি সময়েই সবচে বেশি পরিপূর্ণতা পায়। কোনটা বিশ, কোনটা পচিঁশ, আবার কোনটা ত্রিশ কিংবা পঞ্চাশ। নির্দিষ্ট চক্রানুসারে তালিকাটি চলতে থাকে। আপনি যদি হন এর ভেতরে একেবারে কাঁচা, সদ্য বিশে পা দেওয়া কোন মানুষ, আপনার সামনে যদি থাকে পচিঁশের হাতছানি আর এগুলোর কোনটা যদি এখনো অব্দি না করে থাকেন আপনি তাহলে আর অপেক্ষা না করে এই কাজগুলো করে ফেলুন এখনই।

১. বাবা-মায়ের জন্যে কিছু করা

বাবা-মা সেই অমূল্য সম্পদের নাম যাদের অবদান কখনোই টাকা বা কোনকিছুর মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা যেটার চেষ্টা করতে পারি সেটা হচ্ছে তবুও চেষ্টা করা এবং তাদেরকে একটু হলেও ভালো রাখা, তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা। আপনি আজ যদি ভেবে থাকেন যে, সামনে মাস বা সামনে বছর থেকে বাবা-মায়ের জন্যে খরচ করা শুরু করবেন তাহলে খুব ভুল একটি কাজ করছেন। ভবিষ্যতের কথা কেউ বলতে পারেনা। আর তাই এখন আপনার পক্ষে বাবা-মায়ের জন্যে যেটা করা সম্ভব করুন। তাদেরকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যান, খাবার খেয়ে আসুন একসাথে কোন রেষ্টুরেন্টে, প্রসাধনী বা প্রিয় জিনিসটি কিনে দিন। অর্থাৎ, চেষ্টা করুন তাদেরকে ভালো রাখার দায়িত্বটা একটু একটু করে নিতে।

২. ভ্রমণ করা

পৃথিবীর চারপাশে এত এত নতুন নতুন সব ব্যাপার আর সৌন্দর্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে যে তাদেরকে এক জীবনে দেখে শেষ করা সম্ভব নয়। হয়তো আপনি ভাবছেন আপনার বয়স এখনো অনেক কম। সারাজীবন পড়ে আছে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে। কিন্তু এ চিন্তা মাথায় নিয়ে একদম বসে থাকবেন না। এক্ষুণি বেরিয়ে পড়ুন আর চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব দেখে নেওয়ার (মেট্রো)। কে জানে, শরীর কিংবা অবস্থা হয়তো ভবিষ্যতে আর আপনার অনুকূলে থাকতে নাও পারে। আর তাই চেষ্টা করুন ভ্রমণ করতে, পৃথিবীকে উপভোগ করতে।

৩. ইচ্ছেমতন খাবার খাওয়া

ইচ্ছেমতন খাবার? ভাবতেই ভ্রুটা কুঁচকে যাচ্ছে আপনার, তাই তো? কিন্তু এমন একটা সময়ের কথা ভাবুন তো, যখন আপনার সামান্য পানি পান করতে ইচ্ছে হচ্ছে অথচ নানারকম ঝামেলার কারণে শরীর সেটাকেও নিতে পারছেনা? সামান্য পানিটুকুই আপনার জন্যে হয়ে পড়ছে প্রচন্ড কষ্টকর একটি খাবার। আর তাই সেসময়ের জন্যে অপেক্ষা করে না থেকে চেষ্টা করুন সবরকমের খাবার খাওয়ার। আর সেটা না হলেও অন্তত সবধরনের খাবারের স্বাদ নিয়ে দেখার।

৪. রান্না করতে শেখা

হাস্যকর শোনালেও জীবনের জন্যে রান্না করাটা খুব দরকারি কাজ। আপনার মনে হতেই পারে যে এ কাজের জন্যে তো আরো অনেকে রয়েছে। হ্যাঁ! আছে, তবে সব স্থানে বা সব পরিস্থিতিতে সেটা নাও পেতে পারেন আপনি। হতে পারে বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্যে গিয়ে এই এক রান্না না পারার জন্যেই নাকানি-চোবানি খেতে হল আপনাকে। আর তাই ছেলে হোন বা মেয়ে, রান্নাটা এ সময়ে এসে শিখেই ফেলুন (হাফিংটনপোস্ট)।

৫. না বলা শেখা

জীবনে ভালো কিছু করার জন্যে আর ভালো কিছু পাওয়ার জন্যে না বলতে পারাটা খুব চমৎকার, প্রয়োজনীয় আর কাজের ব্যাপার। আর তাই না বলতে শিখুন। স্পষ্টভাবে না বলুন। যদি এজন্যে একলাও হয়ে যেতে হয় আপনাকে কোন কোন সময় তাহলে সেটাও হোন। এটা মেনে নিন যে মানুষ আসলেই একলা। তাই একলা হবার কথা ভেবে ভয় না পেয়ে সেটাকে মোকাবেলা করতে ও অভ্যস্ত হতে চেষ্টা করুন।

৬. সঞ্চয় করতে শুরু করা

বয়স এখনো কম এ কথা ভেবে নিজের সব টাকা উড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। সঞ্চয় করতে শিখুন (লাইফহ্যাক)। হতেই পারে যে, আপনার আয় এখনো কম, আপনার বয়েস অনেক কম। তবে তা বলে জীবনের রাস্তাটা কিন্তু কম নয়। আর এই দীর্ঘ জীবনকে পাড়ি দিতে দরকার পড়বে অর্থের। যেটা কিনা ভবিষ্যতে প্রচন্ড আসবে আপনার। একটু একটু করে তাই আজই টাকা জমাতে শুরু করে দিন।