মেইন ম্যেনু

ভাঙছে নদী, বিলীন হচ্ছে জনপদ

ভাঙছে নদী, বিলীন হচ্ছে জনপদ, ভাঙছে নদী পাড় ভাঙা সিরাজগঞ্জের হাজারও মানুষের কপাল। যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদী তীরবর্তী ৩টি উপজেলায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। মাত্র একমাসের ব্যবধানে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, সদর ও চৌহালী উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার হেক্টর ফসলী জমি ও শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। বাস্তুহারা এসব মানুষ খোলা আকাশের নীচে ঝুপড়ি তুলে বসবাস করছে। পানি আগ্রাসনের মুখে পড়েছে চার উপজেলার সহস্রাধিক পরিবার।

এ ছাড়া ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আদিবাসী পল্লী-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি ও বসতভিটা। ভাঙনরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বর্ষার মৌসুমে ভাঙন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে আশঙ্কায় নদী তীরের বাসিন্দারা। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ফান্ড না থাকায় ভাঙন রোধে আমাদের কিছুই করার নেই।

নদীভাঙনে গত ১ সপ্তাহে কাজিপুর উপজেলার মেঘাইঘাট, শুভগাছা ও নাটুয়ারপাড়া ৪নং ওয়ার্ডে ৪০০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। বিনষ্ট হয়েছে ৩শ একর ফসল এবং ৪টি মসজিদ, ১টি স্কুল ও ১টি ঈদগাহ মাঠসহ অনেক স্থাপনার জায়গাও বিলীন হয়েছে নদী গর্ভে।

এ ছাড়াও সদর উপজেলার পৌরসভা সংলগ্ন বিয়ারা এলাকার আদিবাসী পল্ল¬ী, চরমালসাপাড়া, বাঐতারা, ছোনগাছা ইউপির বালুঘুগরি, পাঁচঠাকুরি, বাহুকা, ইটালি, চৌহালী উপজেলার খাসকাউলিয়া, চৌদ্দরশি, উত্তর খাসকাউলিয়া, চরজাজুরিয়া, দক্ষিণ খাসকাউলিয়া, খাসপুকুরিয়া, মেটুয়ানী, বিনানুর, চলসলিমাবাদ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

বালিঘুগরি বাঁধের পশ্চিম পাশের সুজাবত আলী, ইদ্রিস আলী, জাহেদুল, ফজল, ওবায়দুল, আমির, আব্দুস সামাদ, কাঙ্গাল, ছানোয়ার ও জুড়ানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের লোকজন তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। গত এক মাসে এসব এলাকার সহস্রাধিক বসতভিটা-কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি-গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। চিরচেনা বাস্তুহারা মানুষগুলো খোলা আকাশের নীচে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিয়ারা এলাকার আদিবাসী নেতা নিবির সরকার জানান, মোল্লাবাড়ী ক্রসবাধ থেকে প্রায় ৫ কি.মি. ভাটিতে বাঐতারা ক্রসবার পর্যন্ত মধ্যবর্তী এলাকায় নদীর ঢেউয়ের আঘাতে ব্যাপক ভাঙছে। ইতোমধ্যে অনেক বসতভিটা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। নদী থেকে মাত্র ৫ মিটার দুরে রয়েছে আদিবাসী পুনর্বাসন, কয়েক লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত মন্দির, কমিউনিটি সেন্টারসহ শতাধিক বসতভিটা। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

বালিঘুরগুড়ী গ্রামের বাসিন্দা ইয়ামিন হোসেন জানান, দেড় মাস ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। পাউবো শুধু দেখে যায় আর ভাঙনস্থানে কোটি টাকা ব্যয়ে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের ব্যর্থ চেষ্টা করে। ভাঙনরোধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

চৌহালী উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক রফিক মোল্লা জানান, উপজেলার খাসকাউলিয়া, চৌদ্দরশি, উত্তর খাসকাউলিয়া, চরজাজুরিয়া, দক্ষিণ খাসকাউলিয়া, খাসপুকুরিয়া, মেটুয়ানী, বিনানুর, চলসলিমাবাদে ব্যাপক ভাঙছে। গত কয়েকদিনে চরসলিমবাদ বাজার নদীগর্ভে চলে গেছে। মেটুয়ানী বালিকা বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাঙনরোধে পাউবো কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রণজিৎ সাহা জানান, ‘মুলিবাড়ী থেকে বাঐতারা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ঢেউয়ের কারণে ভাঙছে। এখানে জিওব্যাগ বা অন্য কোন প্রক্রিয়া গ্রহণ করলে অনেক টাকার প্রয়োজন। আমাদের ফান্ড নেই। যে কারণে আমরা কিছুই করতে পারবোনা। তবে বালিঘুগরী এলাকায় জিওব্যাগ নিক্ষেপ করা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ‘যমুনার পানি ডানতীরে আঘাত হানছে। এ কারণে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’