মেইন ম্যেনু

ভাঙারির দোকানে মিলছে জাতীয় পরিচয়পত্র

জাতীয় পরিচয় পত্র পেতে নানা ভোগান্তির কথা বিভিন্ন সময় শোনা যায়। অথচ সেই জাতীয় পরিচয়পত্র বোয়ালখালী উপজেলায় মিলছে ভাঙারির দোকানে! এ ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজের বিশিষ্ট নাগরিক ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় নানান প্রয়োজনে যেসব জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য উপজেলা সার্ভার স্টেশনে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও মেলেনি, সে জাতীয় পরিচয় পত্র এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় উপজেলার গোমদন্ডী ফুলতল এলাকার এক ভাঙারির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই এসে ওই দোকান থেকে তাঁদের জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করেছেন। এমনকি স্থানীয় এক চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে ওই ভাঙারির দোকান থেকে তার ইউনিয়নের কিছু জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে এলাবাসীর কাছে বিলিও করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, ভাঙারির দোকানে পাওয়া ওই জাতীয় পরিচয় পত্র গুলোর বেশির ভাগ গত ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর ইস্যুকৃত। যার অধিকাংশ পোপাদিয়া ইউনিয়নের। দেশের নাগরিকদের জন্য ইস্যূকৃত গুরুত্বপুর্ণ জাতীয় পরিচয় পত্র গুলো ভাঙারির দোকানে কিভাবে এলো আর কেনোই বা জনগনের কাছে বিলি না করে তা এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হলো তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

উপজেলার পোপাদিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মামুন বলেন, ‘আজ (শনিবার) সকালে ভাঙারির দোকানদারের কাছে আমার এক আত্মীয়ের আইডি কার্ড দেখতে পেয়ে তা নিয়ে নিই। এছাড়া আমার পাশ্ববর্তী এলাকার লোকজনের আরো ১৮টি কার্ড ওই ভাঙ্গারীর দোকানদার থেকে সংগ্রহ করেছি। অথচ জাতীয় পরিচয় পত্র আসেনি এমন সংবাদ যেনে, দিনকে দিন সার্ভার অফিসে ধর্ণা দিয়েছি। এছাড়া আইডি কার্ড না থাকায় বিভিন্ন দরকারি কাজে হয়রানি শিকার হতে হচ্ছিল।’

ভাঙারির দোকানদার আলমগীর বলেন, ‘গত ২০-২৫দিন আগে এক ভাঙারি বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু পরিত্যক্ত মালামাল সংগ্রহ করি। তাতেই এসব আইডি কার্ড পাই। কিছু কার্ডের ঠিকানা চিনতে পারায় তা পরিচিতদের দিয়ে দিই। বেশির ভাগই আইডি কার্ডগুলো আমাদের কাছে রয়েছে। তবে ওই ভাঙ্গারী বিক্রেতা কার্ড গুলো কোথায় পেয়েছে তা আমার জানা নেই।’

পোপাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম জসিম বলেন, ‘এলাকার লোকজন থেকে খবর পেয়ে কিছু আইডি কার্ড আমার জিম্মায় এনেছি। ব্যক্তি সনাক্ত করে কার্ড গুলো তাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মান্নান বলেন, ‘কিছু কার্ড আমিও পেয়েছিলাম তা ইউনিয়ন পরিষদের জমা রয়েছে। অথচ আইডি কার্ড না থাকায় বিভিন্ন দরকারি কাজে হয়রানির শিকার হচ্ছিল লোকজন। কেও পাসপোর্ট করতে পারছেন না, আবার কেও নিজের সরকারি ভাতা তুলতে পারছেন না।’
স্থানীয় সাংবাদিক পূজন সেন বলেন, ‘বোয়ালখালীতে জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ, ভুল সংশোধন, পরিবর্তন এবং হারিয়ে যাওয়া পরিচয় পত্র পুনরায় তুলতে গিয়ে সেবা প্রত্যাশীদেরকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময় দিনকে দিন সার্ভার অফিসে ধর্ণা দিয়ে মিলছেনা জাতীয় পরিচয় পত্র।’

তিনি আরো বলেন, ‘পান থেকে চুন খসলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা যেতে হবে, টাকা লাগবে। অথচ এভাবে শতশত মানুষের জাতীয় পরিচয় পত্র ভাঙারি দোকানে পাওয়া যাবে তা মেনে নেয়া যায় না। আশঙ্কা করছি, জনগনকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য একটি চক্র জাতীয় পরিচয় পত্র গুলো ভাঙারি দোকানদারকে দিয়ে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ কামাল রিশাত বলেন, ‘২০০৯-১০ সালে ভোটার হয়েছেন তাদের উপজেলার কধুরখীল ও পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার ২০১৩ সালে ইস্যুকৃত আইডি কার্ডগুলো এসেছে, যা বিতরণের কাজ চলছে। তবে ভাঙারির দোকানদারের কাছে পোপাদিয়া ইউনিয়নের কার্ড কিভাবে গিয়েছে তা আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।’বাংলামেইল