মেইন ম্যেনু

ভাটার ধোঁয়ায় বিবর্ণ আম

এমনিতে ‘আমের রাজ্য’ খ্যাত রাজশাহী অঞ্চলের গাছের আম নিয়ে নানা কারণে হতাশায় রয়েছে চাষীরা। ঝড়-বৃষ্টিসহ নানা প্রতিকুলতা আর পোকার আক্রমণে আমের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে গাছের আম।

গাছে গাছে আমের গুটি বেড়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে আম। দাগ পড়ে নষ্ট হচ্ছে আমের রং ও আকার। ইটভাটার সংলগ্ন সব বাগানের গাছেই বিবর্ণ হচ্ছে আম। এতে আম চাষীরা ইটভাটা সংলগ্ন ও আশেপাশের বাগান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

রাজশাহীর আশেপাশের উপজেলাগুলোতে ছড়িয়ে আছে শতাধিক ইটের ভাটা। আর সেই ইটের ভাটার কারণে আশেপাশের আমের বাগানগুলোতে হচ্ছে অভাবনীয় ক্ষতি। নির্গত কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় কার্বন মনোঅক্সাইডের প্রভাবে ভাটাসংলগ্ন বাগানগুলোর আমের গুটিতে দাগ পড়তে শুরু করেছে। এ আম কিছুটা বড় হলেই ধরবে পচন।

বাগান মালিকের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে তারা জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করছে। তবুও নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ।

গোদাগাড়ী এলাকার আম বাগানের মালিক আমজাদ হোসেন জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে বাগানে আমের ফলন কম হয়। মুকুল থেকে কুড়োল ধরার হারও অনেক কম। শুধু তাই না, আমগুলো একটু বড় হতেই গায়ে পড়ে নানান ধরনের দাগ, যা পরে পচে যায়। আমের দাম পাওয়া যায় না।

অভিযোগ পাওয়া যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যেসব ইটভাটা রয়েছে সেগুলোতে সরকারি বিধিবিধান মেনে না চলার কারণেই আম ও অন্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, ইটভাটার দূষিত বাতাসের কারণে অনেক সময় ফলের ক্ষতি হয়ে থাকে। এসব ভাটার নির্গত ধোঁয়ায় কার্বন মনোঅক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাবেই ওই বাগানের আমের এমন ক্ষতি হয়েছে।