মেইন ম্যেনু

ভারতীয় সুন্দরী এখন দিনাজপুরে !

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ ভারতীয় সুন্দরী এখন দিনাজপুরে এসেছে। না, চলচ্চিত্র কোনো সুন্দরী নয়, এই ‘সুন্দরী’ হচ্ছে ভারতের মাদ্রাজে উৎপাদিত আমের নাম। নামের সঙ্গে এর দারুণ মিল। তাই হয়তো এই নাম। কিন্তু গুণটা তার বিপদজ্জনক! স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

দিনাজপুর জেলা লিচুর জন্য বিখ্যাত হলেও আমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর পর দিনাজপুরের আমের খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আম বাগানগুলো আমের ছোট ছোট ফলে ভরে গেছে। যৌবন ফুটে উঠেছে এ জেলার আম বাগানগুলোতে। দেশীয় আম পাকতে এখনও অনেক দেরি রয়েছে। তবে ভারতের ‘সুন্দরী’ নামের আমটি এ জেলার সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ঢুকে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে জনজীবন। আমটি দেখতে সুন্দর দেখে বিষাক্ত ফরমালিন মেশানোর কথা আমলে না নিয়ে অনেকেই দেদারছে কিনে খাচ্ছে।

দিনাজপুরের স্টেশন রোড, টিএনটি রোড এবং বাহাদুর বাজারের ফল দোকান থেকে শুরু করে ১৩টি উপজেলার ফলের দোকানেও ফরমালিন মেশানো সুন্দর চেহারার আম জায়গা দখল করে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রতিরোধের কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেই। আমের বোঁটার দিক টকটকে লাল শরীর হলুদ কাপড়ে আচ্ছাদিত। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানদাররা আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে রাখে। মাসের পর মাস আমগুলো থেকে শরীর কুঁচকে গেলেও নষ্ট হয়না। রাসায়নিক প্রয়োগে কৃত্রিম উপায়ে ফলগুলো পাকানো হয়। এগুলোতে রয়েছে বিষাক্ত ফরমালিনের ব্যবহার। লোকজন বাহ্যিক চেহারা দেখে আমগুলো কিনে খায়। একটুও ভাবেনা রাসায়নিক বিষক্রিয়ার কথা, ভাবেনা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে।

ফল বিক্রেতারা জানায়, এ জেলার আম পাকার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতের সুন্দরী আম এসে এখানকার ফল বাজারে বড় ধরনের জায়গা দখল করে নেয়।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু রায়হান মিয়া জানান, রাসায়নিক বিষ প্রয়াগ আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। আমরা এদের বিরুদ্ধে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেবো। ইতোমধ্যে আমরা ভেজালবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে অনেকের জেল জরিমানা করেছি। এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।