মেইন ম্যেনু

ভারতের এই আগ্রাসী নীতির পেছনে যিনি!

পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের চালানো ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নয়াদিল্লির ‘কৌশলগত সংযম’ নীতিতে পরিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। ভারতীয় নীতির এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এমন একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

নয়াদিল্লির নীতিতে পরিবর্তনের প্রথম সংকেত পাওয়া যায় ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবর। সেদিন অজিত দোভাল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালককে তলব করেন। সীমান্তে সামান্যতম উসকানিতেও পাকিস্তানকে পূর্ণশক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন দোভাল।

ভারতীয় নীতির এই অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রের ভাষ্য, পাকিস্তানের দিক থেকে আসা একটি গুলির জবাবে দুটি গুলি ছুড়তে বিএসএফকে নির্দেশ দেন দোভাল।

এসব ক্ষেত্রে পাকিস্তানের রেঞ্জারস বা সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো ধরনের পতাকা বৈঠক না করতেও বিএসএফকে বলে দেন তিনি।

২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর দোভালকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন। এরপর দোভালের ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল’ পাকিস্তান সীমান্তে বাস্তবায়নের প্রতিফলন বিভিন্ন সময় লক্ষ করা যায়।

এমনকি গত জুন মাসে মিয়ানমারের ভেতরে ভারতের চালানো সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনাও দোভালের। গত দুই বছরে ভারতের নীতিতে আসা পরিবর্তন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল সমৃদ্ধ করেছে। এই সময়ে ইসলামাবাদ স্পষ্ট বার্তা পেয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ অব্যাহত রাখলে তাদের রক্ত ঝরবে।

ভারতের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, পাকিস্তানের দিক থেকে গুলি ছোড়া হলে বিএসএফ ও ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন আর বসে থাকে না। তাদের কড়া জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারত গত বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জঙ্গি আস্তানায় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায়। ভারতের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ওই অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনারা বিএসএফকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তখন তাদের সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে।

১৯৬৮ সালের ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজিত দোভাল মিজোরাম, পাঞ্জাব এবং কাশ্মিরে জঙ্গি আন্দোলন ঠাণ্ডা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কীর্তি চক্রে সম্মানিত হন তিনি। এ ছাড়াও তার সাফল্যের মুকুটে আছে ‘রাষ্ট্রপতি পদক’-এর মতো পালক। ভারতের পঞ্চম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে অজিত দোভালের ওপরই আস্থা রাখেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।