মেইন ম্যেনু

ভারতের সম্ভাব্য আক্রমণকে কতটা ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান?

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সাম্প্রতিকতম সংঘাতকে ঘিরে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে এই ঐতিহাসিক সীমান্তে উদ্বেগ আর উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান, সন্দেহ নেই। এটা কি ঠান্ডা লড়াই, নাকি একেবারেই উত্তপ্ত সংঘর্যের মহড়া, তা বুঝে অথবা না-বুঝেই দুই রাষ্ট্র নখ-দাঁত শানিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এটাই খবর, একমাত্র খবর।

এই সংঘাতে কে বেশি বলবান, সেটা বড় কথা নয়, আসল প্রশ্ন হল— এই সংঘাতে কি লড়াই খ্যাপাগিরির আদৌ কোনও মূল্য রয়েছে? কাশ্মীরের উরি সেক্টরে পাক জঙ্গিদের হাতে ভারতীয় সেনার হত্যা ভারতীয় মননে বিপুল প্রতিক্রিয়া সষ্টি করেছে।

খবরে প্রকাশ, ভারতের তরফ থেকে কোনও রকম অভিযানের লক্ষণ দেখা গেলেই পাক-সেনাদলও ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। এমনকী এও শোনা যাচ্ছে, ভারতের কোথায় কোথায় আক্রমণ করা হবে, তা-ও পাকিস্তান-বাহিনী স্থির করে রেখেছে।

পাকিস্তান সামরিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সে দেশ ভারত থেকে কোনও রকম আগ্রাসনকেই বরদাস্ত করবে না। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শৌকত কাদির রাওয়ালপিন্ডি থেকে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে উত্তাপ বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত কিছু ঘটে গেলে তা যৌথ আত্মহত্যার সমতুল হবে।

ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর প্রতিষ্ঠাতা কাদিরের মতে— ‘যুদ্ধ কোনও সমাধান-পথ হতে পারে না। আবার এমন ক্ষেত্রে বন্ধুত্বও সম্ভব নয়। একমাত্র রাস্তা সহাবস্থান।’ ভূ-কৌশলগত দিকগুলি বিবেচনা করে ব্রিগেডিয়ার কাদির আরও জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধ হলে দুই দেশই ভুগবে’। পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বৈদেশিক পরামর্শদাতা শরতাজ আজিজ বলেছেন, ইসলামাবাদ কাশ্মীর-সহ যাবতীয় সমস্যার সমাধানসূত্র খুঁজে পেতে নিঃশর্ত আলোচনায় বসতে রাজি।

কিন্তু ভারতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, আর তার সঙ্গত কারণও রয়েছে। বিদেশনীতি-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রণং দেহি পরিস্থিতিকে মাথা রেখেও ভারত অন্যভাবে পাকিস্তানের উপরে যথাসম্ভব চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সূত্রের খবর, পাকিস্তান এই মুহূর্তে ভয় পাচ্ছে এই ভেবে যে, ভারত আফগানদের কাজে লাগিয়ে বালুচিস্তানে ছায়াযুদ্ধের নীতি নিয়ে জঙ্গিহানায় স্পনসর করতে পারে। -এবেলা