মেইন ম্যেনু

ভারতের সর্বোচ্চ জনপদ, রহস্যেও কি অদ্বিতীয়?

লোকবিশ্বাস তথা সংস্কৃতির গভীরে থেকে গিয়েছে এমন কিছু শিকড়, যা কয়েকদিনের সফরে বোঝা যাবে না।এমন কিছু প্রথা, এমন কিছু বিশ্বাস এই ভূখণ্ডে বিরাজ করে, যা রীতিমতো রহস্যময়।

লাদাখে ট্যুরিস্ট আকর্ষণ নিয়ে নতুন করে রিছু লেখার রয়েছে বলে মনে হয় না। এই মুহূর্তে এদেশের সবথেকে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট-ডেস্টিনেশন লাদাখ কি কেবল মাত্র একটা ল্যান্ডস্কেপ? ট্যুরিজম কিন্তু এই প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে পারে না। পারার কথাও নয়। লাদাখে পৌঁছলে টের পাওয়া যায়, হাজার হাজার বছরের মানব সভ্যতা প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে গিয়েছে এই ভূখণ্ডে। প্রকৃতি এবং মানুষ এখানে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়িত। আর এই সম্পর্কবন্ধন হাজার হাজার বছরে প্রায় অপরিবর্তিত থেকে গিয়েছে। লোকবিশ্বাস তথা সংস্কৃতির গভীরে থেকে গিয়েছে এমন কিছু শিকড়, যা কয়েকদিনের সফরে বোঝা যাবে না।এমন কিছু প্রথা, এমন কিছু বিশ্বাস এই ভূখণ্ডে বিরাজ করে, যা রীতিমতো রহস্যময়।

• কুং ফু সন্ন্যাসিনী: লাদাখের দ্রুকপা মঠের সন্ন্যাসিনীরা আজ সংবাদ শিরোনামে। তিব্বতি বৌদ্ধ এই মঠে অসংখ্য অনাথ মেয়েকে আশ্রয় দেওয়া হয়। তার পরে শিক্ষাদানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শেখানো হতে থাকে মার্শাল আর্ট। এই সন্ন্যাসিনীদের কেউ কেই জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদমনের কাজেও অংশ নিয়েছেন। এঁদের নিয়ে বিবিসি এক বিস্তারিত তথ্যচিত্রও তৈরি করেছে।

• ও পি বাবার আখড়া: সিয়াচেন বেসক্যাম্পের এই ‘ধর্মস্থান’ আসলে ওম প্রকাশ নামের এক বীর সেনার স্মারক। মালাউনে ভিনদেশি হানার সময়ে তিনি অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।

• চুম্বক পাহাড়: ম্যাগনেটিক হিল লাদাখের অন্যতম দ্রষ্টব্য। এর কাছাকাছি গেলে চড়াই পথে গাড়ি আপনাআপনি উঠতে শুরু করে, স্টার্ট বন্ধ করে গিয়ার নিউট্রালে রাখলে। অবশ্য পরে জানা গিয়েছে, এটা নেহতই দৃষ্টিবিভ্রম।

• ৎসো কারের কিংবদন্তি: লাদাখের বিখ্যাত লবন জলের হ্রদ ৎসো কার-কে ঘিরে বিরাজ করে এক আজব কিংবদন্তি। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এক দানব জল খেতে গিয়ে জল ছড়িয়ে ফেলে। তার ফলেই নাকি এই হ্রদের সৃষ্টি হয়।

• আজও লাদাখের বাসিন্দাদের পরিবারের কনিষ্ঠতম সন্তান মঠে যোগ দেয়। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমী শিক্ষার অনুপ্রবেশের ফলে এই প্রথা কিছুটা হলেও থমকিয়ে রয়েছে।

• লাদাখবাসীর বিশ্বাস, একটি বিশেষ শাঁখে ফুঁ দিলে নাকি ১২০ লামাকে জাগানো যায়। এই লামারাও শাঁখ বাজিয়ে জবাব দেন। কার্শা মঠে দ্বিপ্রাহরিক আহারের সময়ে এই শাঁখ বাজানো হয়। আর ১২০ লামাও তার উত্তর দিয়ে ভোজনে যোগ দেন।

• সর্পরাজের গুহা: লাদাখের মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, লিকির গুম্ফা আসলে জোকপো নামধারী সর্পরাজের আবাস। ‘লিকির’ শব্দের অর্থও ‘কুণ্ডলী পাকানো সাপ’।

• লাদাখের অন্থাম প্রাচীন মঠ আলচি। এই মঠটি কার্যত একটি জাদুঘর। তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের অসংখ্য পুথি, প্রাচীন বজ্রযানী মূর্তি এখানে সংরক্ষিত। -এবেলা