মেইন ম্যেনু

ভারতের ৭ নির্ভীক পুলিশ কর্মী যাঁদের গুলিতে নিহত হয়েছে সর্বাধিক অপরাধী

‘এনকাউন্টার’ শব্দটা শুনলেই শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যায় একটা হিমেল স্রোত। শব্দটার আভিধানিক অর্থ যা-ই হোক, যখনই অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় শব্দটি তখনই তার মানে যায় বদলে। তখন ‘এনকাউন্টার’ মানে দাঁড়িয়ে যায় পুলিশের গুলিতে অপরাধীর মৃত্যু। আইনি পথে কোনও অপরাধীকে শায়েস্তা করার অনেক বাধা, তা অনেক সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। তাই অনেক সময় বিশুদ্ধ আইনি পথে না গিয়ে কৌশলে গুলিতে ধরাশায়ী করা হয় অপরাধীদের।

মুম্বই পুলিশ এই কৌশল প্রয়োগের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত বা কুখ্যাত। তবে প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পুলিশও এই কৌশল প্রয়োগ করে। এখানে রইল ভারতীয় পুলিশের এমন ৭ জন কর্মীর কথা যাঁরা বিখ্যাত হয়েছেন তাঁদের এনকাউন্টার ঘটিত কার্যকলাপের জন্য। এঁদের গুলিতেই সর্বাধিক অপরাধী মারা গিয়েছে বলে খবর।

প্রদীপ শর্মা: মোট এনকাউন্টার-এর সংখ্যা ১০৪। অনেকের মতে ইনিই ভারতীয় পুলিশের সবচেয়ে রাফ অ্যান্ড টাফ পুলিশকর্মী। কেউ কেউ বলেন, এঁর হাতে এখনও পর্যন্ত ৩১২ জন অপরাধী নিহত হয়েছে। তবে সরকারি মতে, সংখ্যাটা অনেক কম।

মাফিয়া থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদী পর্যন্ত অনেকেই রয়েছে এই নিহতের তালিকায়। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার কারণে একবার সাসপেন্ডও হয়েছিলেন প্রদীপ।

দয়া নায়েক: মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা ৮৩। ‘অব তক ছপ্পন’, কিংবা সঞ্জয় দত্তের ‘ডিপার্টমেন্ট’-এর মতো সিনেমা তৈরি হয়েছিল এঁরই জীবনের অনুপ্রেরণায়। ১৯৯৭ সালে গ্যাংস্টার ছোটা রাজনের দলের দুই সদস্যকে গুলি করে মারার সময় দয়ার শরীরেও দু’টি গুলি লাগে। কিন্তু তাতে দমেননি দয়া।

প্রফুল্ল ভোঁসলে: মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা আনুমানিক ৯০। মুম্বই পুলিশের ‘ডেথ স্কোয়াড’-এর একজন সদস্য প্রফুল্ল তাঁর তদন্তের দক্ষতার জন্যও বিখ্যাত। গ্যাংস্টার ছোটা শাকিলের দলের ভাড়া করা খুনি আরিফ কালিয়াই সম্ভবত তাঁর সর্বপ্রধান শিকার।

প্রফুল্ল ভোঁসলে: মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা আনুমানিক ৯০। মুম্বই পুলিশের ‘ডেথ স্কোয়াড’-এর একজন সদস্য প্রফুল্ল তাঁর তদন্তের দক্ষতার জন্যও বিখ্যাত। গ্যাংস্টার ছোটা শাকিলের দলের ভাড়া করা খুনি আরিফ কালিয়াই সম্ভবত তাঁর সর্বপ্রধান শিকার।

সচিন হিন্দুরাও ওয়াজে: মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা ৬৩। মুম্বইয়ের মুমব্রা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন সচিন। মুন্না কাপালি, কৃষ্ণা শেট্টি এবং লস্কর-এ-তইবার বেশ কিছু সদস্য নিহত হয় সচিন‌‌ের গুলিতে। প্রদীপ শর্মার সঙ্গে মিলে সচিন মুম্বই অ্যান্টি এক্সটর্শন সেল-এর প্রথম এনকাউন্টার পরিচালনা করেন।

রবীন্দ্র আংরে: মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা ৫১। থানে এলাকায় দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়়ন্ত প্রায় একা হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন রবীন্দ্র। দুষ্কৃতীরা তাঁকে এতটাই ভয় পেত যে মূলত তাঁর ভয়েই সেই সময়কার নামজাদা দুষ্কৃতী সুরেশ মাঞ্চেকর নিজের দল ভেঙে দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু রবীন্দ্র শেষ পর্যন্ত সুরেশকে খুঁজে বার করেন, এবং গুলি করে হত্যা করেন।

রজবীর সিংহ: মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা ৫১। দিল্লি পুলিশের একমাত্র কর্মী যিনি মাত্র ১৩ বছরে এসিপির পদে প্রোমোশন পান। কর্মজীবনে প্রায় ৫১ জন অপরাধীকে ধরাশায়ী করেন তিনি। তবে তাঁর মৃত্যু হয় অত্যন্ত আকস্মিকভাবে। এক বাল্যবন্ধু সামান্য টাকার ধার নিয়ে বিবাদের জেরে গুলি করে হত্যা করে রজবীরকে।