মেইন ম্যেনু

ভারতে এখন লবনের কেজি ৪০০ টাকা! নোটের পর লবন নিয়ে হাহাকার

আচমকাই শুক্রবার ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউ, কানপুর, ফতেপুর, নয়ডা সহ-একাধিক জায়গায় নুনের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের অধিকাংশ দোকান থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায় নুনের বস্তা বস্তা প্যাকেট। কেউ কেউ আবার একাই ২০ থেকে ৪০টা করে নুনের প্যাকেট নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়েন। কিন্তু, হঠাৎ নুন নিয়ে এমন আকচাআকচি কেন?

উত্তরপ্রদেশে কোনও ভাবে রটে গিয়েছিল, গুজরাটে নুনের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে টাটা গোষ্ঠী। যার জন্য দেশের বাজারে নুনের যোগান কমে গিয়েছে। এবং নুনের দাম এবার ২০০ টাকা কিলো দরে পৌঁছে যাবে। ব্যস, এমন গুজবে কান দিয়ে দোকানে দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেন লখনউ, কানপুর থেকে ফতেপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। যে যার মত নুন স্টক করতে শুরু করে। দোকানিরাও এর ফায়দা তুলে বলতে থাকে, নুনের যোগান কমে যাওয়ার কথা এবং ১৮ থেকে ২০ টাকা কিলো দরের নুন, কেউ কেউ বেচতে শুরু করেন ৪০০ টাকা কিলো দরে।

উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে সঙ্গে নুন নিয়ে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে লাগোয়া দিল্লিতেও। দলে দলে মানুষ নুন কিনতে ছুটতে থাকেন দোকানে। অনেকে নুন না পেয়ে দোকানে ভাঙচুর শুরু করেন। এমনকী, লাইনে দাঁড়ানো নিয়েও লোকেদের মধ্যে ঝামেলা বেঁধে যায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও মারপিটে বেশকিছু লোক জখম হয়েছে বলে খবর।

এদিকে, উত্তরপ্রদেশ লাগোয়া বিহারের বহু স্থানেও নুন নিয়ে গুজব শুরু হয়। দোকানে দোকানে ভিড় করতে থাকেন মানুষ। গুজরাটেরও বহু জায়গাতেও নুন কেনার জন্য লাইন পড়ে যায়।

নুনের যোগান নিয়ে গুজবের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে দেখে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করে প্রত্যেকটি রাজ্য সরকার। উত্তরপ্রদেশে নুন নিয়ে কীভাবে গুজব রটল তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। যে সব অসাধু ব্যবসায়ী এই গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি সরকারও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয় রাজ্যে পর্যাপ্ত নুন আছে। কোনওভাবে এই নিয়ে সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকও টুইটারে জানিয়ে দেয়, দেশে রোজ ২২০ লক্ষ টন নুন উৎপাদন হয়। এর মধ্যে মাত্র ৬০ লক্ষ টন সাধারণ মানুষ ব্যবহার করেন। বাকি নুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউসেজ বা রফতানির জন্য রাখা থাকে। সুতরাং, নুনের সঙ্কট তৈরি হলে তা সামলানোর মতো ব্যবস্থা সরকারের কাছে বলেও জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। -এবেলা।