মেইন ম্যেনু

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৫ জন

ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে পাচার হওয়া শিশুসহ ৩৫ জন নারী-পুরুষ বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ২৯ জন নারী ৩ জন পুরুষ এবং বাকি ৩ জন শিশু।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে এদের হস্তান্তর করেন। ফেরত আসা নারী পুরুষ এবং শিশুদের বাড়ি নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, মাদারীপুর ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, অভাব অনটনের সংসারে এরা দালালদের খপ্পরে পড়ে ভালো কাজের আশায় ভারতে যায়। সে দেশের মহারাষ্ট্রে বাসাবাড়ি এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় তারা পুলিশের কাছে আটক হন। পরে আদালতের নির্দেশে তিনজন পুরুষকে ‘দেবী শিশু শেল্টার হোমে’ ও শিশু ৩ জন এবং ২৯ জন নারীকে ‘রেসকিউ ফাউন্ডেশনে’ রাখা হয়।

আটকদের বিভিন্ন মেয়াদে সেখানে থাকা অবস্থায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চিঠি চালাচালির পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তারা কেউ কেউ উক্ত শেল্টার হোমে ২ বছর, কেউ ৩ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত আটক ছিলেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফেরত আসা নারী পুরুষ ও শিশুদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ জানান, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের কাগজপত্রের কাজ শেষে মানবাধিকার সংস্থা যশোর রাইটসকে ১২ জন, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারে ৯ জন এবং মহিলা আইনজীবী সমিতির নিকট ১৪ জনকে হস্তান্তর করা হবে। এসব এনজিও সংস্থা তাদের নিজ নিজ শেল্টার হোমে রেখে পরে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করবেন।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির যশোর শাখার সমন্বয়কারী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সালমা খাতুন জানান, পাচার হওয়া নারীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের অভিভাবকরা যদি পাচারকারীদের শনাক্ত করে মামলা করতে চায় তাহলে আইনি সহয়তা করা হবে বলে জানান তিনি।