মেইন ম্যেনু

ভারতে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করতে আইন সংশোধনের পরিকল্পনা!

বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করতে বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিও) সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার।

অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেল টাইমস নাউ খবরটি জানিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনেও একই ধরনের আভাস দেওয়া হয়েছে।

টাইমস নাউ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান ইউএপিএ আইন অনুযায়ী ভারতে ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই, শুধু সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা যায়। আর সেকারণে ইউএপিএ আইনে সংশোধনী আনার কথা ভাবা হচ্ছে। আইনটি সংশোধন করা হলে উসকানিমূলক কিংবা বিতর্কিত বক্তাদেরও নিষিদ্ধ করতে পারবে ভারত সরকার।

এর আগে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এনডিটিভিকে জানিয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যক্তিকে নয়, সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে থাকে। আর এজন্য বাংলাদেশ থেকে তথ্য পেতে হবে তাদের। বাংলাদেশ প্রমাণ সরবরাহ করলেই কেবল তারা এ ব্যাপারে এগোতে পারবে বলা হয়েছিল সে সময়। তবে তারা কোন পথে এগোবে সে ব্যাপারে তখন পরিষ্কার করে জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গুলশান হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত দুইজন জাকির নায়েককে অনুসরণ করত বলে অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নিহত জঙ্গিদের দুজন-রোহান ইমতিয়াজ এবং নিবরাস ইসলাম জাকির নায়েককে অনুসরণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে। রোহান গত বছর জাকির নায়েকের পিস টিভির একটি অনুষ্ঠান তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিল। এছাড়া ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া জঙ্গিরাও জাকির নায়েককে অনুসরণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাটনার গান্ধী ময়দান ও বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণে আটক জঙ্গিদের কাছ থেকেও জাকিরের বক্তৃতার সিডি ও বই উদ্ধারের দাবি করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর দাবি ওঠে।

জাকিরের বিভিন্ন বয়ানের অডিও-ভিডিও ক্লিপিংস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গতিবিধি খতিয়ে দেখতে ভারত সরকার এরইমধ্যে ৯টি তদন্ত দল গঠন করেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাকিরের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য যে ৯টি দল গঠন করা হয়েছে তার মধ্যে চারটি দল জাকিরের বক্তব্যের ভিডিও ও সিডি-র ফুটেজগুলি খতিয়ে দেখবে। তিনটি দল খতিয়ে দেখবে সোশ্যাল সাইটে জাকিরের গতিবিধি। আর জাকিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দু’টি দলের উপর। এই দলগুলিতে থাকছেন এনআইএ, ইনটেলিজেন্স ব্যুরো, এবং রেভিনিউ ইনটেলিজেন্সের প্রতিনিধিরা।