মেইন ম্যেনু

ভারতে তীব্র গরম আর খরায় ধুঁকছে ৩৩ কোটি মানুষ

তীব্র গরমে গত বছর ভারতে মারা গিয়েছিলেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এ বছরও তীব্র গরম আর খরার কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে ভারতের অনেক অঞ্চলের জনজীবন। খরার কারণে ৩৩ কোটি মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে ভারত সরকার। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ এখনও কিছু রাজ্য তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

পানির জন্য বর্ষাকালের বৃষ্টিপাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ভারতের মানুষ। কিন্তু টানা দুই বছর ধরে স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে তৈরি হয়েছে খরা পরিস্থিতি। সেই সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছে। ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলেই চলছে তীব্র দাবদাহ। টানা কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা। গরমের কারণে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য উড়িষ্যার স্কুলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে সেখানে মারা গেছে একশর বেশি মানুষ।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রও ধুঁকছে তীব্র খরায়। ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা, আইপিএলের ১৩টি ম্যাচ মহারাষ্ট্র থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্রের আদালত। কারণ পিচ তৈরি করতে খরচ করতে হতো বিপুল পরিমাণ পানি। সুইমিং পুলগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে। খাবার পানির তীব্র সংকট মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে নজীরবিহীন পদক্ষেপ। ট্রেনে করে ৫ লাখ লিটার পানি পাঠানো হয়েছে খরাকবলিত অঞ্চলে। আরও ২৫ লাখ লিটার পানি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৯১টি জলাধারের পানি আছে মোট ধারণক্ষমতার ২৯ শতাংশ। গত এক দশকের মধ্যে এটাই এই জলাধারগুলোর সর্বনিম্ন অবস্থা।

ভারতের ৮৫ শতাংশ মানুষ খাবার পানির জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও দিন দিন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াটার এইড।