মেইন ম্যেনু

‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’

ভারতে বাবা-মেয়ের ‘সেলফি’ আন্দোলন

ভারতে কন্যা সন্তানের অনুপাত যেভাবে কমছে, তা বিপরীতমুখী করতে আর মেয়েদের পড়াশোনার প্রতি নজর দিতে আবেদন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এ ব্যাপারে উৎসাহ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন বাবা-মেয়ের সেলফি তুলতে। মোদির আহ্বানের পর দেশে বিদেশে অনলাইন দুনিয়ায় এখন বাবা-মেয়ের সেলফি প্রকাশের হিড়িক পড়েছে। খবর ডয়েচে ভেলের।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ‘মন কি বাত’ বেতার ভাষণে দেশের কন্যা সন্তানদের সার্বিক বিকাশে দিল্লির লাগোয়া রাজ্য হরিয়ানার বিবিপুর গ্রামকে মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ডাক দিয়েছেন বাবা-মেয়ের সেলফি বা নিজস্বী সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে পোস্ট করার জন্য। দেশবাসীর প্রতি এই আবেদন জানানোর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশে-বিদেশে প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি সেলফি পোস্ট করা হয়েছে। তার মধ্যে সেরা তিনটি সেলফিকে পুরস্কৃতও করা হয়েছে ট্রফি, সার্টিফিকেট আর নগদ টাকা দিয়ে। এভাবে বিপুল সাড়া পাওয়ায় খোদ প্রধানমন্ত্রী আপ্লুত। এবার মায়েরাও নাকি এতে সামিল হবেন, জানিয়েছেন তিনি।

বিবিপুর মডেল কেন?

কন্যাভ্রুণ হত্যার শীর্ষে থাকা হরিয়ানা রাজ্যের বিবিপুরে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুনীল জগন সামাজিক এই নির্যাতনের ধারা বিপরীতমুখী করতে নিজের মেয়ের সঙ্গে সেলফি তুলে টুইটারে পোস্ট করেছিলেন গত ৯ই জুন, যা সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর নিজের মাসিক ‘মন কি বাত’ বেতার ভাষণে সেই প্রসঙ্গ টেনে এই সামাজিক কর্মসূচিকে এক গণআন্দোলন হিসেবে গোটা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন মোদি। পাশাপাশি বিবিপুর মডেলকে সামনে রেখে নারীদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে আগামী রাখি-বন্ধন উপলক্ষ্যে ন্যূনতম ১২ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে মেয়েদের সুরক্ষা বিমা কর্মসূচিরও উল্লেখ করেন তিনি। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জীবনবিমা ও দুর্ঘটনা বিমা; যার মূল কথা ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’। যেসব মেয়েরা ঘর-গৃহস্থালিতে, খেতে-খামারে দিনরাত খাটেন তাদের ক্ষমতায়নেই এই কর্মসূচি বিশেষ অবদান রাখবে বলে বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

Selfy-modiমোদী নিজেই সেলফির ভক্ত

মোদী নিজেই সেল্ফির ভক্ত কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের মতো এই সামাজিক আন্দোলনকেও রাজনৈতিক রং দিয়ে বিতর্ক খাড়া করার চেষ্টা শুরু করেছে বিরোধি দলগুলো। কংগ্রেসের অভিযোগ, বোন-ভাইয়ের রাখি বন্ধনের সময় বোনকে এই বিমা উপহার দেয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী কি তার কথিত বোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, রাজস্থানের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে তাদের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আড়াল করতে চাইছেন? কারণ মাসিক ঐ ভাষণে এবার দেশের বর্তমান দুর্নীতি এবং চলতি রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে একটি কথাও খরচ করেননি মোদি। বরং আশ্চর্যজনকভাবেই নিজ দলের বিরুদ্ধে আইপিএল ক্রিকেটসহ চলতি দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী একেবারেই চুপ থেকেছেন। কেন?

‘মন কি বাত’-কে ঘিরে প্রশ্ন

আম আদমি পার্টির মতো বিরোধী দল মনে করে, সাবেক কংগ্রেস জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং যেমন তার সরকারের বিরুদ্ধে আনীত একাধিক দুর্নীতি কাণ্ডে নীরব থাকায় গত সংসদীয় নির্বাচনে কংগ্রেস দল নীরব হয়ে যায়, তেমনি বিজেপি প্রধানমন্ত্রী মোদি যদি গুরুতর জাতীয় ইস্যুতে নীরব থাকেন তাহলে তার দলেরও একই পরিণতি হতে পারে। তাই তাদের মতে, দেশবাসীর উচিত প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের জনমোহিনী ডাকে সাড়া না দেয়া।

উত্তরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে জটিল কোনো রাজনৈতিক ইস্যুর পরিবর্তে তিনি হাল্কা চালে সামাজিক কর্মসূচি নিয়েই কথা বলতে বেশি ভালোবাসেন। এই যেমন, ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগদিবস, বৃক্ষরোপন, পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তবে দিল্লির রাজনৈতিক মহল মনে করে, এ কথা বলেই মোদি পার পাবেন না।

মেয়েরা এখনও পিছিয়ে

এদিকে হালের রাষ্ট্রীয় স্বাক্ষরতা সমীক্ষা তুলে ধরেছে এক কঠিন বাস্ত সত্য। ফলাফল যা দাঁড়িয়েছে, তা হলো– ৮৩ শতাংশ পুরুষের অনুপাতে মাত্র ৬৭ শতাংশ নারী স্বাক্ষর ভারতে। অর্থাৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যকার ফারাক প্রায় ১৬ শতাংশের। তাই আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে আবারও যে ঝড় উঠবে, তার অশনিসংকেত হয়ত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।