মেইন ম্যেনু

ভারত ও আমেরিকার যে ইতিহাস আপনার জানা উচিৎ

আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছে যারা আমেরিকা ইউরোপ গিয়ে নিজের দেশকে অসভ্য, চাষা-ভূষার দেশ বলে। আমেরিকা ইউরোপ কে তারা মনে করে স্বর্গ। অথচ বেশী দিন নয়। ১০০/২০০ বছর আগে ফিরে গেলে আমরা কি দেখতে পাই ? আমাদের এলাকার মানুষ বরাবরই উদার, সহজ সরল। আমাদের মানুষদের ঠকিয়েছে তারা, আমরা তাদের চেয়ে চিন্তায়, মননে অনেক সৎ ছিলাম। আসুন একটি বাস্তব উদাহর আপনাদের দেখাই…..

আমরা সাধারনত জানি ব্রিটিশ, ওলন্দাজ, পর্তুগীজরা আমাদের এই উপমহাদেশে বাণিজ্য করেছে কিন্তু আমরা কতো জন জানি যে আমেরিকা স্বাধীন হবার পর থেকে আমাদের এই উপমহাদেশে বাণিজ্য করেছিল? মার্কিন বনিকগণ আমাদের উপমহাদেশে বাণিজ্য শুরু করে ১৭৮৪ সালের দিকে যা এখনও চলছে। যেহেতু তারা সদ্য ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে আর উপমহাদেশ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে তাই তাঁদের বাণিজ্য করাটা বেশ গোপনীয় ভাবে করতে হত। তবে মার্কিনরা এই উপমহাদেশে বাণিজ্য করে বুদ্ধির মাধ্যমে।

মার্কিন বনিকগণ এই উপমহাদেশ থেকে যা নিছে তা অন্য কেউ কোন দিন নেবার কথা চিন্তাও করে নি। মার্কিনরা এই উপমহাদেশ থেকে বাঘ, সিংহ, ময়ূর, বানর, মহিষ, কবুতর প্রভিতি নিয়ে ওই দেশে প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। ১৭৭৬ সালের ১৩ এপ্রিল ভারত থেকে একটা বাচ্চা হাতি আমদানি করেন বনিক জ্যাকব ক্রাউনশিল্ড। এর আগে আমেরিকানরা কোন দিন হাতি দেখে নি। এই হাতি আমদানি করে সারা আমেরিকাতে তিনি আলোড়ন তৈরি করেন। এতো আলোড়ন তৈরি করেন যে, প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের সুপারিশে তিনি মেসাচুসেটাস থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

এবার বলবেন, তারা কি শুধু এই দেশ থেকে ওই দেশে নিয়ে গেছে, আমাদের উপমহাদেশে তারা কিছু দেয় নি? না দিলে বাণিজ্য হবে কিভাবে, তারা কি দিছে জানেন? তারা আমাদের দেশে বরফ রপ্তানি করেছে। বনিক ফ্রেডারিক টিউটর টাস্কেনি জাহাজে করে ১৮০ টন বরফ ১৮৩৩ সালে প্রথম আমেরিকা থেকে কোলকাতায় এনে সারা উপমহাদেশে হৈ চৈ ফেলে দেন। কোলকাতা থেকে ইন্ডিয়া গেজেট নামক পত্রিকার হেড লাইনে আসে, “ কোলকাতায় বরফ আমদানি এবং নতুন যুগের সূচনা” । বিস্তারিত ভাবে যা বলা হয় তার সংক্ষেপ হল, বরফ শুধু খাবার টেবিলে নয়, এর আছে ওষুধি গুনাগুণ, যে কোন রোগ এর মাধ্যমে সেরে যায়।

(The Frozen Water Trade: A true Story by Gavin Weightman, page no- 221-224)