মেইন ম্যেনু

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ কি আদৌও হবে!

পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেট যুদ্ধ আদৌও কি হবে? সেরকম কোন সম্ভাবনা নিকট ভবিষ্যতে দেখা যাচ্ছে না। উপমহাদেশের ক্রিকেটে দুই পরাশক্তি ভারত-পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্ধি ভারত-পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেট লড়াই বন্ধ রয়েছে ৭ বছর ৬ মাস। আর সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলে না ২ বছর ৫ মাস। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ভারত-পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। সেটা ছিল বিশ্বকাপের ম্যাচ। ভারত জিতেছিল ৭৬ রানে।

উপমহাদেশের সেরা দু’দল নিজ নিজ ভেন্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বে, এমন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। দু’দেশের মোট ১৪০ কোটি মানুষ আশায় বুক বেঁধে রয়েছে কবে হবে ক্রিকেট লড়াই। একটি দুর্ঘটনা সব কিছু বদলে দিয়েছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর । পাকিস্তানের একদল সন্ত্রাসী ভারতের বৃহত্তম নগরী মুম্বাইয়ে পরিকল্পিত হামলা করে। চারদিন ব্যাপি সে হামলায় ১৬৪ জন মানুষ নিহত হয়, আহত ৩০৮ জন। ঐ হামলার নেতৃত্বে ছিল জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার ১০ জন সদস্য। হামলা পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিল আজমল কাসাব।

ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের সদস্য, সেনা বাহিনী সম্মিলিত আক্রমণে হামলাকারী ৯ জন সদস্যকে ঐ বছর ২৯ নভেম্বর হত্যা করে। মূল হামলাকারী আজমণ কাসাবকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে আসে। চার বছর বিচার কার্য চলে। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ২০১২ সালের ২৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন। ঐ বছর ২১ নভেম্বর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

পাঠক হয়ত ভাবতে পারেন, পাক-ভারত ক্রিকেট সিরিজের সাথে এ হামলার কি সম্পর্ক? ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে লিখতে বসে হামলা, যুদ্ধ, সন্ত্রাস এসব কেন বর্ণনা করছি? যে কেউ হয়ত বিরক্ত হতে পারেন। মুম্বাই হামলার কারণে ভারত চিরপ্রতিদ্বন্ধি পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল করে দেয়। পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দল অস্বীকার করে।

মুম্বাইয়ের ঐ হামলায় কার কি লাভ হয়েছে, জানি না, কিন্তু ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। উপমহাদেশের শত কোটিরও বেশি দর্শক এ দু’দেশের ক্রিকেট উত্তেজনা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ না হওয়ার অর্থই হচ্ছে ক্রিকেটের ক্ষতি, আর আর্থিক দিক থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বড় ক্ষতি।

পিসিবি বহু চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট এবং সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলানোর জন্য, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাদের ফাঁদে পা দেয়নি। ভারতকে পাকিস্তানে না আনতে পারা পিসিবি’র জন্য বড় ব্যর্থতা। ক্রিকেট হতে পারে দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটা বড় মাধ্যম। ক্রিকেট কূটনীতি পারে দু’দেশের মানুষের হৃদয় জয় করতে।

মুম্বাইয়ে ঐ হামলার পর শুধু ভারত নয় বহু দেশই পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকার করে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সবাই সরে দাঁড়ায়। ভারতের মাটিতে পাকিস্তান সর্বশেষ সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলেছিল ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারী। ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় অনুষ্ঠিত সে ম্যাচে ভারত ১০ রানে জিতেছিল। পাকিস্তানের মাটিতে ভারত সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২০০৬ সালের ১৯ ফেব্রয়াররি করাচী জাতীয় স্টেডিয়ামে। ভারত ৮ উইকেটে জয়ী হয়।

২০০৬ সালের ১৮ ও ১৯ এপ্রিল দু’দিনে দু’টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নেয় ভারত- পাকিস্তান। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচ দু’টি অনুষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উভয় দল ১টি করে ম্যাচে জয়ী হয়। পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান সম্প্রতি কোলকাতায় বিসিসিআই সভাপতি জাগমোহন ডালমিয়ার সাথে দু’দেশের মধ্যে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন। দু’দেশের বোর্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ড আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিসিবি এবং বিসিসিআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২২ সাল পর্যন্ত উভয় দেশ একে অপরের ভেন্যুতে ৬টি টেস্ট সিরিজে অংশ নেবে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল’র) চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ তাড়াতাড়ি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ হলে দু’দেশই লাভবান হবে। দু’দেশের মধ্যে ক্রিকেটীয় উম্মাদনা শুরু হবে। গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর জন্য শত কোটি দর্শক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে না। তাদের আশা আকাঙ্খা ধুলিসাৎ হতে পারে না। ভারত-পাকিস্তানের মাটিতে দু’দেশের মধ্যে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ ম্যাচ অনুঠিত হোক, করাচী, লাহোর, ফয়সালাবাদ, কোলকাতা, মুম্বাই, দির্ল্লির ভেন্যুগুলো আবার দু’দেশের ক্রিকেট তারকাদের পদচারণায় ভরে উঠুক সেটাই ১৪০কোটি মানুষের প্রত্যাশা।