মেইন ম্যেনু

ভারত মূল্য কমানোয় বেড়েছে পিয়াজের আমদানি

ভারত মূল্য কমিয়ে দিলেও বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় পিয়াজের কোন চালান আমদানি হয়নি। তবে ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারতীয় পিয়াজ আমদানি আসা শুরু হয়েছে জোরেশোরে। ফলে দেশীয় বাজারে পিয়াজের মূল্য কমতে শুরু করেছে।

এদিকে ছয় মাস পর বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানিতে ৩শ মার্কিন ডলার কমিয়েছে ভারত। ৭০৫ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৪০৫ মার্কিন ডলারে পিয়াজ রপ্তানির নিদের্শনা দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল এগ্রিকালচার কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ন্যাফেড)।

ভারতীয় কাঁচামাল পণ্যের রপ্তানি মূল্য কয়েক মাস ধরে বেড়ে চলায় দেশের সর্ববৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলসহ অন্যান্য বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পিয়াজ আমদানি হ্রাস পায়। ফলে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

অন্যদিকে দেশীয় বাজারে এসব পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। বর্তমানে প্রতিদিন ভেমার বন্দর দিয়ে ৫০/৬০ ট্রাক পিয়াজ আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিট্রন ৪৫০ মার্কিন ডলারে পিয়াজ শুল্কতায়ন করে খালাস দিচ্ছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, চাহিদা মেটাতে গত দু-এক মাস আগেও প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় শতাধিক ট্রাক বিভিন্ন প্রকারের কাঁচামাল আমদানি হতো। এসব আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে- মাশ, পিয়াজ, গম, ঝাল, রসুন, আদা, চিনি, পান পাতাসহ বিভিন্ন প্রকারের পণ্য। গত কয়েক মাসে ভারতে কাঁচামালের রপ্তানি মূল্য আকাশছোয়া হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মুনাফা তো দূরের কথা খরচও উঠাতে পারছেন না।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি উপেক্ষা করে কয়েক দফায় পিয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ায় ভারত। সে দেশের বাজারে পিয়াজের দাম কমাতে ও যোগান বাড়ানোর অজুহাতে গত ২৬ জুন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এক ধাক্কায় প্রতি টনে পিয়াজের রপ্তানি মূল্য ৪২৫ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ ডলার করে। অতিরিক্ত ২৭৫ মার্কিন ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশে পিয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। বেড়ে যায় পিয়াজের দাম। প্রতি কেজি পিয়াজের ক্রয় মূল্য ৫৫ টাকা ৩০ পয়সা হওয়ায় আমদানিতে অনাগ্রহ দেখায় এদেশের আমদানিকারকরা।

সাতক্ষীরার আমদানিকারক আসাদুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার ভারতের ন্যাফেড প্রতি মেট্রিক টন পিয়াজের রপ্তানি মূল্য ৩শ মার্কিন ডলার কমিয়েছে। ছয় মাস আগে ৪২৫ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে ভারত। বাংলাদেশে পিয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় ভারতের এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের আমদানিকারক জেএল গাডওযারের পরিচালক টিংকু মণ্ডল বলেন, প্রতি মে. টন পিয়াজের রপ্তানি মূল্য ৩শ ডলার কমানো হয়েছে। ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পিয়াজ রপ্তানি বাড়বে বহুগুণ।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, আগে ৪০৫ ডলার মূল্যে ভারত থেকে আমদানি করা পিয়াজ বন্দরেই প্রতি কেজির দাম প্রকার ভেদে ৩০/৩৫ টাকা পড়েছিল। একই পিয়াজ ৭০০ ডলার মূল্যে আমদানি করলে কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৫৭ থেকে ৬০ টাকা। ভারত তিনশ ডলার পিয়াজের মূল্য কমানোর ফলে দাম অনেক কমে যাবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি পিয়াজের দাম খুচরা মুল্য ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোর্য়াড়িং স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, ভারতে পিয়াজের সঙ্কট চলছিল। নতুন মূল্যে পিয়াজ রপ্তানির নির্দেশনা দিয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি পত্র ফ্যাক্সযোগে ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসে এসেছে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের সহকারী কমিশনার নুরুল বাসির বলেন, মূল্য কমানোর বিষয়ে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের এখনো কিছু জানায়নি। তবে পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। কোনো ব্যবসায়ী পিয়াজ আমদানি করলে কাস্টমসের নির্ধারিত করা মূল্যে তা খালাস দেওয়া হবে।