মেইন ম্যেনু

ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন, ৩ মেয়েকে নিয়ে আজ রাস্তায় কেন রীতা?

ভালবেসে বছর ছ’য়েক আগে মনতোষ বিশ্বাসের হাত ধরে বাপের বাড়ি ছেড়েছিলেন রীতা পাসোয়ান। পরিবারের অনুমতি না মেনে ভিন্ন জাতের সঙ্গে বিয়ে করায়, ছেলে ও মেয়ে উভয় পরিবারের তরফেই মেনে নেওয়া হয়নি এই বিয়ে। ফলে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার বদলে স্বামীর হাত ধরে পৌঁছে গেলেন আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে। সেখানেই মাস কয়েক সংসার করার পর স্বামীর আসল পরিচয় জানতে পারেন রীতা দেবী। তবুও স্বামীর সংসারেই মুখ বুজে পড়ে ছিলেন।

বিপদ ঘটল ৩ কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়াতেই। ৩ কন্যার দায় এড়াতে রীতা দেবীকে ছেড়ে পালিয়ে যান স্বামী মনতোষ। ফলে বর্তমানে স্বামী পরিত্যক্তা রীতার ঠাঁই হয়েছে বাবুপাড়া এলাকার হাটখোলায়। রীতা বিশ্বাস(পাসোয়ান)-এর

কথায়, প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই সময় তার স্বামী মনতোষ, নিজেকে বিত্তশালী পরিবারের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর আসল সত্যটা সামনে আসে। বাড়ির ঠিকানা ছাড়া আর কিছুই জানতে পারেননি স্বামীর থেকে।

এদিকে বিয়ের পর মনতোষ ঠিকাদারের অধীনের কাজ ছেড়ে দিয়ে লটারি বিক্রির কাজ শুরু করেন। রীতা দেবী জানিয়েছেন, লটারি বিক্রির পাশাপশি রাতে চুরিও করতেন তাঁর স্বামী। এই নিয়ে সংসারে রোজ অশান্তি লেগেই থাকত। অপরদিকে ৩ মেয়ের জন্ম। সব মিলিয়ে প্রতিদিন সংসারে ঝামেলা ঝঞ্ঝাট লেগেই থাকত।

টাকা না থাকায় ভাড়া বাড়িও ছেড়ে দিতে হয় রীতাদেবীকে। বর্তমানে রীতাদেবীর ঠাঁই দুর্গাবাড়ি এলাকার হাটখোলায় খোলা আকাশের নীচে। এখন কী ভাবে জীবন কাটবে তাঁর, এই নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রীতা দেবীর। এখন তাঁর স্বপ্ন, মেয়েদের বড় করে তাঁদের ভাল জায়গায় বিয়ে দেওয়া।

মেয়ে ও স্ত্রীকে ছেড়ে যাওয়ার আগের দিন, রীতাদেবীর সঙ্গে বচসা বেঁধেছিল মনতোষের। বাচ্চাদের জন্মের নথি ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে চরম ঝামেলা বাঁধে। এরপরেই সকাল থেকে বেপাত্তা হয়ে যান স্বামী। বাচ্চাদের জন্মের নথি হারানোর পরে তাঁদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রীতা দেবী। প্রথম দিকে লোকের কাছে হাত পেতেই জীবন কাটাচ্ছিলেন। সেই সময় রীতার পাশে দাঁড়ান আশুতোষ কলোনীর সূত্রধর পরিবার। রীতাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি ভরপেট খাবারেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ওই পরিবার।-এবেলা