মেইন ম্যেনু

ভালোবাসার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়ে থাকেন একজন দৃঢ়চেতা নারী

বেশীরভাগ পুরুষের ধারণা দৃঢ়চেতা স্বাবলম্বী স্বাধীনচেতা নারীরা ভালোবাসতে জানেন না, ভালোবাসার জন্য কম্প্রোমাইজ করতে পারেন না। বিষয়টি পুরোপুরি এমনটি না হলেও দৃঢ়চেতা নারীরা চান তাকে তার গুণাবলি এবং তার বর্তমান পর্যন্ত করা সকল কাজের মাধ্যমেই বিবেচনা করা হোক।

দৃঢ়চেতা নারীর বাহ্যিক কঠোরতা দেখে মনে করবেন না তাদের ভেতরটাও এমনই। বরং কঠোর মানসিকতা এবং স্বাধীনচেতা নারীরাও খুব গভীরভাবে ভালোবাসতে পারেন এবং চান তার জীবনে এমন একটি সম্পর্ক হোক যা পুরো জীবনের অর্থই বদলে দিতে পারে। এবং দৃঢ়চেতা নারীরা মনে করেন এবং চান তার নিজস্বতা, তার চিন্তা, তার লক্ষ্য সব নিয়েই তার সম্পর্কটি সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে শুধুমাত্র সঠিক মানুষটির সাথে সম্পর্ক হলে। তাই যে সকল পুরুষেরা দৃঢ় মনভাবের নারীর সাথে সম্পর্ক করতে চান বা যাদের সম্পর্ক রয়েছে তারা সম্পর্ক গভীর করতে বুঝে নিন কিছু বিষয়।

১) দৃঢ়চেতা নারীরা নিজেদের জীবনের লক্ষ্যকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেন, তবে তার অর্থ এই নয় যে তারা নিজের সম্পর্কের কথা ভুলে যান। তার কাছে সম্পর্ক এবং লক্ষ্য দুটোই নেক গুরুত্বপূর্ণ। তাকে দুটির মধ্যে একটি বেছে নেয়ার জন্য চাপ দেবেন না।

২) স্বাধীনচেতা দৃঢ় মানসিকতার নারীরা অনেক আত্মনির্ভরশীল হয়ে থাকেন। নিজের জীবন গুছিয়ে নিতে হতে পারে সম্পর্কের দিকে একধাপ পিছিয়ে পড়তে পারেন আপনার থেকে, কিন্তু এটিও বেশীদিনের জন্য নয়। তবে এর জন্য তাদের প্রয়োজন সময়ের। সঠিক সময় এলেই নতুন করে তারা সম্পর্কে মানিয়ে নিতে পারবেন।

৩) এই ধরণের নারীরা অনেক বেশী ক্রিয়েটিভ ও খোলা মানসিকতার হয়ে থাকেন। তারা একই ধরণের বিষয় নিয়ে পুনরায় আলাপ না করে নতুন নতুন বিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। আপনাদের কথা মধ্যেও বিষয় পরিবর্তনের ব্যাপারটিও তিনি করবেন নিজের মতো করেই।

৪) দৃঢ় মানসিকতার নারীরা নিজের সময় অযথা নষ্ট করা পছন্দ করেন না। তাই অযথা নাটক করে এবং অন্যের ব্যাপারে আলাপ ও নিন্দা করে তাকে বিরক্ত করবেন না।

৫) এই ধরণের নারীরা সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন। কী প্রয়োজন, কী চাচ্ছেন সবই তারা মুখ ফুটে প্রকাশ করেন কোনো লুকোছাপা না করেই এবং সম্পর্কের স্বচ্ছতার জন্য তিনি সঙ্গীর কাছ থেকেও একই আশা করেন।

৬) স্বাধীনচেতা মানসিকতার নারীদের একই ধরণের মানসিকতা সম্পন্ন নিজস্ব ফ্রেন্ড সার্কেল রয়েছে। তারা চান তিনি যেমন সঙ্গীর বন্ধুবান্ধবকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন তেমনই সঙ্গী তার বন্ধুবান্ধবকে গুরুত্ব দিন।

৭) দৃঢ়চেতা নারীরা অনেক আবেগীয় নন। তারা সরাসরি অনেক কিছুই জানতে চান। সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কি তা তারা সরাসরি সঙ্গীর কাছ থেকেই জানতে চান।

৮) স্বাবলম্বী স্বাধীনচেতা নারীরা নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী এবং উদ্যোগী থাকেন এবং তারা নিজের সঙ্গীর মধ্যেও এই বিষয়টি আশা করেন।

৯) এই ধরণের নারীরা সম্পর্কে সমস্যা হলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের পথ খুঁজতে থাকেন। তারা বিশ্বাস করেন সরে আসা বা চলে যাওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।

১০) যদি তারা মনে করেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে তাহলে তা সঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পেছপা হন না। এবং তারা একইভাবে সঙ্গীর কাছ থেকেও শুধু কথা নয় কাজই আশা করেন।

১১) দৃঢ় মানসিকতার নারীরা খুব কম মানুষের সাথেই খুবই ভালো বন্ধুত্ব গড়েন এবং বাকিদের জন্য একধরণের দেয়াল তুলে দেন। তাই আপনি তাকে আপনার সাথে খোলামেলা হওয়ার জন্য চাপ না দিয়ে অপেক্ষা করুন তিনি নিজে কখন এই দেয়াল ভাঙেন।

১২) দৃঢ়চেতা নারীরা নিজের আদর্শকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং চান সঙ্গীরও আদর্শ থাকুক। তবে তারা দুজনের আদর্শের গড়মিল হলে নিজের আদর্শ বিসর্জন দেয়ার বিষয়টি একেবারেই পছন্দ করেন না। তারা কখনোই সঙ্গীকে তার আদর্শ ছাড়তে বলবেন না এবং আশা করবেন সঙ্গীও তার আদর্শের মূল্য দিক।

১৩) স্বাবলম্বী নারীরা কখনোই মনে করেন না তার আপনাকে প্রয়োজন নেই, তিনি শুধু ভাবেন তিনি নিজেই অনেক কিছু করে নিতে পারবেন। তাই তাকে সঙ্গীর কাছে যাওয়া এবং তার জীবনে প্রয়োজনীয়তা বোঝার জন্য সময় দেয়া প্রয়োজন।

১৪) দৃঢ়চেতা নারীরা নিজের দায়িত্ব থেকে কখনোই পিছিয়ে আসেন না এবং নিজের ভুলের জন্য অন্য কাউকে দোষারোপও করেন না এবং সঙ্গীর ক্ষেত্রেও বিশ্বস্ততার সাথে একই জিনিস আশা করে থাকেন। এবং তারা এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে কিছুই বলেন না সঙ্গীকে কারণ তারা অতীতের স্মৃতি বর্তমানে টানতে পছন্দ করেন না।

১৫) দৃঢ়চেতা নারীরা নেতিবাচক চিন্তা দূরে সরিয়ে ইতিবাচক বিষয়ে আশাবাদী থাকেন এবং নিজের সঙ্গীর দিক থেকেও একই বিষয় আশা করেন। তাই আপনার হতাশাসূচক মন্তব্য বা কথার বিপরীতে তারা কথা শোনাতে পিছু হটবেন না।

সূত্র: powerofpositivity