মেইন ম্যেনু

ভালো খেলেও নেপালের নাটকীয় হার

২০০৮ সালে এই লঙ্কানদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল নেপালিরা। সাত বছর বাদের এই সাফ ফুটবলেও পার্থক্যটা বোঝা গেল। ম্যাচের প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কা একবার গোলর কাছে বল নিয়ে গেলেও বাকিটা সময় নেপালের আধিপত্য ছিল। কিন্তু স্কোরলাইন বলছে ভিন্ন কিছু। কেননা ওই গুটি কয়েক ওই আক্রমণ থেকেই যে আসল কাজটা করেছে লঙ্কানরা! অনেকটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেও ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।

এদিন নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটে। নেপাল তখন অল-আউট আক্রমণে। হাইলাইন ডিফেন্স। তাও আবার অগোছালো। শেষ মিনিটে ভিড়ের ভেতর থেকে মোহাম্মদ রিফনাস গোল করে নেপালিদের স্তব্ধ করে দেন।

অথচ এর আগ পর্যন্ত ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল ওই নেপালের হাতে। প্রথমার্ধে শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষককে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় পড়তে হয়। সেই পরীক্ষায় অবশ্য তিনি ভালোভাবেই পাশ করেন।

ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে শ্রীলঙ্কা। ডান দিক থেকে বক্সে দারুণ একটি ক্রস পাঠান ইসান। কিন্তু জালে বল পাঠানোর মতো কেউ সেখানে ছিলেন না।

ছয় মিনিট বাদে রোহিত চাঁদের দৃষ্টিনন্দন একটি হেড সেভ করেন শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক। একটু এদিক-ওদিক করতে পারলে গোল পেয়ে যেতেন রোহিত। প্রথমার্ধে বেশ দাপুটে ফুটবল খেলেছেন এই রোহিত। প্রস্তুতি ম্যাচে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষেও দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি।

৪১তম মিনিটে রোহিত চাঁদের আরেকটি দারুণ দূর পাল্লার শট অল্পের জন্য বারের উপর দিয়ে যায়। ৪৫তম মিনিটে প্রথম গোলের খুব কাছে পৌঁছায় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু গোলরক্ষক কিরণ চেমজংয়ের তৎপরতায় লঙ্কার সিংহরা গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়। টানেলে যাওয়ার আগে বাকিটা সময় দেখেশুনে পার করে দেয় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে জার্সি বদল করে সবাইকে চমকে দেয় নেপাল। প্রথমার্ধে তারা লালচে রঙের জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। শ্রীলঙ্কার জার্সিও কিছুটা একই রকম। মূলত সেই কারণেই জার্সি বদল করে নেপালিরা।

নতুন জার্সিতে শুরু থেকেই আক্রমণে যায় নেপাল। ৪৬তম মিনিটে বিমল ডান দিক থেকে ক্রস পাঠান বিক্রম মাগারকে উদ্দেশ্য করে। গোলমুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন।

চার মিনিট বাদে অনিল গ্রুং ডান দিক থেকে ফের বক্সের ভেতর বল প্লেস করেন। হাত খানেক দূরেই ছিলেন ওই বিক্রম। কিন্তু এবারও ব্যর্থ তিনি। বলের গতি বুঝতে পারেননি। তাই শেষ মুহূর্তে কোনমতো পা লাগানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে গোলরক্ষক কিরণ বল নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেন।

৫৯তম মিনিটে ম্যাচের অন্যতম একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রোহিত চাঁদ। ডান দিকে বক্সের বেশ কিছুটা বাইরে থেকে বাঁ পায়ে সেট পিস নিয়েছিলেন হেমন্ত গ্রুং। রোহিত দ্বিতীয় বারের ঠিক সামনে অরক্ষিত ছিলেন। হেডও করেন। কিন্তু লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারেননি।

৬৪তম মিনিটে মাঝমাঠে সতেজতা আনতে বিক্রম লামাকে উঠিয়ে জগজিতকে নামান নেপালের কোচ। ৭০তম মিনিটে চোখ ধাঁধানো সেট পিস নেন শ্রীলঙ্কার রিজওয়ান। বক্সের ঠিক ডান কোনা থেকে প্রথমবারেই কিক নিয়েছিলেন। কিছুটা ইনসুইং ছিল। কিন্তু সুজন পেরেরাকে হারাতে পারেননি। বারের ঠিক কোনা থেকে বল পাঞ্চ করে লঙ্কানদের হতাশ করেন তিনি।

৮৩তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে নেপালের গোলরক্ষককে ভড়কে দেয়ার চেষ্টা করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা জগজিৎ। ডান দিক থেকে গোলের ২৪ গজ দূরে বসে শট নেন। বল সেভ করতে কিরণকে বেশ খানিকটা লাফাতে হয়। বলের পজিশন এমনই ছিল, সেভ করতে যেয়ে বারে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়েন গোলরক্ষক কিরণ। বল বারের চুল পরিমাণ উপর দিয়ে বাইরে যায়।

এরপর গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। এতটাই মরিয়া যে কিছুক্ষণের জন্য মনোযোগ হারায় তারা। খেসারত দিতে হয় ম্যাচ হেরে। আগামীকাল বাংলাদেশের ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। আজকের ম্যাচ দেখে থাকলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন মারুফুল হকের ছেলেরা। বিশেষ করে ওই ‘অন্তিম সময়ে গোল হজমে’র ব্যাপারটা। এ যে মামুনুলদের পুরনো রোগ!