মেইন ম্যেনু

ভালো ফুটবলারও ছিলেন বঙ্গবন্ধু

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জানলেও তার ফুটবল প্রতিভা সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানেন না। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি তার ভালোবাসা ও পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি প্রথম জীবনে বঙ্গবন্ধু ভালো একজন ফুটবলারও ছিলেন।

ঢাকা ওয়ান্ডারাস ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একজন আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে নীতি, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ভালোবাসার শিক্ষা অর্জন করেছিলেন তিনি।

ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি মুজিব ছিলেন উদার ও যথেষ্ঠ মানবিক গুনসম্পন্ন আদর্শ একজন নেতা। যারা তাঁর ব্যক্তিগত সংস্পর্শে এসেছেন, তারাই তাঁর ভদ্রতা ও যত্নে অভিভূত হয়েছেন। মানুষের চেহারা ও নাম মনে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মুজিব ছিলেন বন্ধু ও দলের কর্মীদের কাছে আদর্শের মূর্ত প্রতীক। প্রত্যেকের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক ছিলো তাঁর। তেমনি খেলাধূলার ময়দানে তিনি ছিলেন দক্ষ একজন খেলোয়াড়। দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য খেলার মাঠে অন্যান্য সতীর্থদের সঙ্গে অসাধারণ বোঝাপড়ারও সুনাম ছিল এই মহান নেতার।

বঙ্গবন্ধু আসলে একটু বেশিই উদার ছিলেন, অনেকেই তাঁর এই মহৎ গুণের সুযোগ নিতেন। তাঁদের অপকর্মের কথা তাঁর কানে এলেও শাস্তি দেওয়ার মতো মানসিকতা ছিল না হাজারের বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালীটির। শুধু খেলা কেনো, জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অসাধারণ সাহস, চিত্তের দৃঢ়তা ও মহত্ব ও দারুণ কীর্তির জন্য তিনি যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে চিরসজীব থাকবেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের সেই খেলোয়াড় সুলভ মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে তার জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামালের মাঝেও। ফুটবলের প্রতি তার হৃদ্যতার টান থাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা আবাহনী ক্লাব। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাড়ে তিন বছরে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে অনেক দূর নিয়ে গিয়েছিলেন। ১৫ আগস্টের সেই নির্মম ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে মৃত্যবরণ না করলে হয়তো তার হাত ধরে আরো উন্নতির শিখরে পৌঁছে যেত বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের যুবসমাজকে বিশ্বউপযোগী করে তোলা সম্ভব।

খেলাধূলার প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভালোবাসা এবং শেখ কামালের হৃদয়ের যে টান তা অব্যাহত রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মাঝেও। ক্রীড়া জগতের উন্নতিতে তিনি সর্বদাই সজাগ। খেলোয়াড়দের পেলেই তিনি উৎসাহ দেন। শেখ কামালের ৬৬ তম জন্ম বার্ষিকীতে তিনি দেশের ছয়জন সেরা খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠককে স্বর্নপদক প্রদান করেন। শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সকে সর্বাধুনিকভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিভিন্ন পুরস্কার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান উন্নতি ও বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।