মেইন ম্যেনু

ভিক্ষা করে ব্যাংক বানালেন ভিক্ষুক!

ভিক্ষা করে ব্যাংকে হয়ত লাখ টাকা জমিয়েছেন কোনো ভিক্ষুক। এ সংবাদ শুনে তাই আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ভিখারিরা মিলে দিব্যি একটা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে! কী, ভিমড়ি খেলেন? নিজেদের উন্নয়নের জন্য সত্যিই এমন ব্যাংক তৈরি করেছেন বিহারের গয়ার কয়েকজন ভিক্ষুক। ব্যাংকের ম্যানেজার, কোষাধ্যক্ষ ও এজেন্ট সবাই ভিক্ষুক। গ্রাহকও নিজেরা।

এই ব্যাংকের সদস্য সংখ্যা ৪০। গয়ার ‘মা মঙ্গলাগৌরী’ মন্দিরের বাইরে বছরের পর বছর ধরে ভিক্ষা করছেন ওই ভিখারিরা। মন্দিরে আসা দর্শনার্থীরা তাদের ভিক্ষাপাত্রে এক টাকা দু’টাকা করে দেন। আর তা দিয়েই সংসার চলে তাদের। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তারা নিজেদের ব্যাংক তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলাগৌরী মন্দিরের বাইরে ভিক্ষা করেন বলে নিজেদের ব্যাংকের নাম তারা দিয়েছেন ‘মঙ্গলা ব্যাংক। এমন খবরই জানিয়েছে ভারতের এক দৈনিক।

রাজকুমার মাঝি নামে এক ভিক্ষুক জানিয়েছেন, নিজেদের জন্য ওই ব্যাংক তৈরি করেছেন তারা। ব্যাংকের ম্যানেজারও তিনি। জানান, প্রতি মঙ্গলবার তারা প্রত্যেকে ২০ টাকা করে জমা দেন। ফলে সপ্তাহে ৮০০ টাকা জমা পড়ে ব্যাংকে।

ব্যাংকের সেক্রেটারি মালতি দেবী জানান, ভিক্ষুকদের স্বপ্ন এবং আশা পূরণের জন্য এই ব্যাংক খোলা হয়েছে। তিনি জানান, এই ব্যাংকের বেশিরভাগ সদস্যের BPL কার্ড কিংবা আধার কার্ড নেই।

রাজকুমার মাঝির স্ত্রী নাগিনা দেবী এই ব্যাংকের কোষাধ্যক্ষ। তিনি জানান, জমা টাকার হিসাব রাখা তার কাজ। ব্যাংকের এজেন্ট বানারিক পাসোয়ান জানান, তার কাজ হলো প্রতি সপ্তাহে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা।

যে কোনো সময় টাকার প্রয়োজন হলে তাদের আর দুশ্চিন্তা হয় না। ব্যাংকের ম্যানেজার বলেন, ‘আমার মেয়ে এবং বোন আগুনে পুড়ে আহত হয়েছিল। সেইসময় ব্যাংক থেকে আট হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং প্রাইভেট ব্যাংকে যেখানে ঋণ নিতে জামিনদার লাগে, সেখানে কোনো কাগজ ছাড়াই আমার মতো একজন ভিক্ষুককে কীভাবে একটা ব্যাংক সাহায্য করতে পারে, এটা তার উদাহরণ।’

এক মাসের জন্য তাদের ব্যাংকে ঋণের সুদ দিতে হবে না বলেও জানান তিনি। তবে পরের মাস থেকে ২-৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মালতি দেবী।

এই ব্যাঙ্কের সরকারি স্বীকৃতি না থাকলেও ভিক্ষুকরা খুশি। নিজেদের ব্যাংক পেয়ে তারা আনন্দে উদ্বেলিত। টাকা সঞ্চয় করছেন, নিজেদের হাতে গড়া ব্যাংকে জমা রাখছেন, খুশি না হয়ে পারে?