মেইন ম্যেনু

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাবে দুই কোটি শিশু

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হবে আগামী শনিবার। ওই দিন সারা দেশে প্রায় ২ কোটি ১৪ লাখের অধিক শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি আরো ২০ হাজার অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে জাতীয় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ব্রিজের টোল প্লাজা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, খেয়াঘাট ইত্যাদি এলাকায় এসব কেন্দ্র থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে তিনজন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী এ দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম এলাকায়ও জাতীয় ভিটামিন এ প্লাসের ক্যাম্পেইন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের দারগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অপুষ্টির হার এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমে এসেছে। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন এ খাওয়ানোর হার শতভাগ উন্নীত করা হয়েছে। যার কারণে ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের হার শতকরা এক ভাগের নীচে নেমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শনিবার জাতীয় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-১১মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (লক্ষ আই, ইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই ইউ) খাওয়ানো হবে। একইসঙ্গে শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোসহ অন্যান্য পুষ্টিবার্তা প্রচার করা হবে।

তিনি বলেন, শনিবার জাতীয় ভিটামিন ক্যাম্পেইনে যাতে দেশের একটি শিশুও বাদ না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য তাদের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে শুধু রাতকানা থেকে রক্ষা নয় বরং ভিটামিন এ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখে, শর্করা জাতীয় খাদ্যের স্বাভাবিক পরিপাকে সাহায্য করে, শরীরের ত্বক, হাড়, দাঁতের গঠন ও সুস্থতা রক্ষায় সহায়তা করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল এবং হামের জটিলতা কমায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বাসুদেব গাঙ্গুলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।