মেইন ম্যেনু

ভুলে ভরা জেলা তথ্য বাতায়ন পাবনা

রবিউল ইসলাম শাহীন, জেলা প্রতিনিধি, পাবনা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে ই-তথ্য সেবাকেন্দ্র। সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের অন্যতম একটি হলো ‘জেলা তথ্য বাতায়ন’। যেখান থেকে নানা তথ্য-সুবিধা ভোগ করেন মানুষ। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ তথ্য নিয়ে চলছে পাবনা জেলা তথ্য বাতায়ন।

উপকারভোগীরা বলছেন, নিয়মিত হালনাগাদ না করার কারণে তথ্য বিভ্রাটে পড়ছেন তাঁরা। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন তাঁরা। আর জেলা তথ্য বাতায়নের তথ্য হালনাগাদ না করার বিষয়টি স্বীকার করে তা দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পাবনা জেলা তথ্য বাতায়ন থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৫ জুন পাবনায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন আলমগীর কবির পরাগ। কিন্তু পাবনা জেলা তথ্য বাতায়নে শোভা পাচ্ছে তাঁর আগের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদের নাম ও ছবি। অথচ তিনি বদলি হয়েছেন ছয় মাসের বেশি সময়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই তথ্য ও ছবি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যাঁরা কর্মরত আছেন, তাঁদের কোনো তথ্য সেখানে নেই। রয়েছে যাঁরা অনেক আগে বদলি হয়ে গেছেন, তাঁদের নাম ও ছবি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনোয়ারুল আজিজ অবসরে গেছেন ছয় মাসের বেশি সময় আগে। কিন্তু তথ্য বাতায়নে এখনো রয়েছে তাঁর নাম। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কুমার বসাক থাকলেও তথ্য বাতায়নে তাঁর বিষয়টি হালনাগাদ নেই।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বর্তমান উপপরিচালক মলয় ভূষণ চক্রবর্তী। কিন্তু তথ্য বাতায়নে শোভা পাচ্ছে ফজলুর রহমানের নাম ও ছবি, যিনি বদলি হয়েছেন প্রায় চার মাস আগে।

একইভাবে তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি। জেলার পত্রিকাগুলোর তথ্যও সেখানে হালনাগাদ করা হয় না দীর্ঘদিন। অনেক দিনের পুরোনো পত্রিকা বর্তমানে চালু থাকলেও সেসব পত্রিকার নাম নেই তথ্য বাতায়নে। পাবনা জেলা তথ্য বাতায়নের এসব ত্রুটিপূর্ণ তথ্য নিয়ে ‘তথ্য বিভ্রাটে’ পড়ছেন উপকারভোগী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পাবনার একজন অনলাইন ব্যবহারকারী বলেন, ‘আমরা সরকারি বিভিন্ন তথ্য আপডেট জানতে জেলা তথ্য বাতায়ন দেখি। কিন্তু সেখান থেকে সঠিক তথ্য আমরা পাচ্ছি না। অনেক দিনের পুরোনো তথ্য সেখানে দেখা যাচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘জেলা তথ্য বাতায়নের তথ্যগুলো হালনাগাদ না করার কারণে বিভিন্ন সময়ে যে তথ্য প্রয়োজন হয়, সেগুলো সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি। আমরা চাই, জেলা তথ্য বাতায়নটি যেন নিয়মিত হালনাগাদ করে আমাদের ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পাবনার সম্পাদক আবদুল মতীন খান বলেন, ‘পাবনা জেলা তথ্য বাতায়ন আমরা দেখি সঠিক ও দ্রুত তথ্য পাওয়ার জন্য। কিন্তু একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা চাকরি করছেন অথচ তাঁর নাম তথ্য নেই। যিনি অনেক আগে বদলি হয়েছেন বা অবসরে গেছেন, তাঁর তথ্য দেওয়া রয়েছে। সেখানে ভুল তথ্য থাকা আমাদের জন্য হতাশার। আমরা এটার সুরাহা চাই। আশা করি, সেখান থেকে আমরা সঠিক বার্তাটি পাব।’

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শাখায় ন্যাশনাল ইলেকট্রিক সার্ভিস সিস্টেমের (নেস) কারিগরি বিষয়টি আমরা আমাদের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে দিয়ে নিয়মিত চেকআপ করানোর ব্যবস্থা করেছি। জেলা তথ্য বাতায়নে যে বিষয়গুলো বা তথ্য হালনাগাদ নেই, সেগুলো আমরা নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা নেব।’