মেইন ম্যেনু

ভুল করে আর্কিমিডিসকে হত্যা করা হয়

নিজের বাড়ির আঙিনায় আঁকিবুকি করছেন আর্কিমিডিস। নিছক ফেলনা কিছু নয়। গণিতের কোনও নতুন সূত্র হয়তো। আর্কিমিডিস যখন গণিতে ডুবে থাকেন চারপাশের জগতের কোনও খোঁজ রাখেন না। রোমানরা আক্রমণ করেছে তাঁর দেশে। যুদ্ধে তাঁর দেশের সম্রাট হেরেও গেছেন। কিন্তু আর্কিমিডিসের সেদিকে খেয়াল নেই। তিনি তাঁর কাজ নিয়েই ব্যস্ত। ঠিক তখনই কোনও এক মাথামোটা সৈনিক এসে আর্কিমিডিসকে আত্মসমর্পন করতে বলে। হাতে তাঁর ধারালো খোলা তরবারি। আর্কিমিডিসের বয়েই গেল তাকে কেয়ার করতে। বরং তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আহ, বিরক্ত করো না, দেখছো না ব্যস্ত আছি!’

মাথামোটা সৈনিক গণিতের কী বোঝে। আর্কিমিডিসকে সে চেনে না, ব্যাটা জানে শুধু যুদ্ধ করতে। আর্কিমিডিসের কথায় তার আঁতে ঘা লাগল। ‘কী, পরাজিত দেশের নাগরিকের এতবড় স্পর্ধা, এত বড় কথা বলে!’ বেকুবটা তলোয়ারের এক কোপ বসিয়ে দিল আর্কিমিডিসের ঘাড়ে। সাথে সাথে আলাদা হয়ে ধুলোয় লুটিয়ে পড়ল আর্কিমিডিসের মাথা। পরে সেই কাটা মুন্ডু দেখে রোমান সম্রাট দুঃখ পেয়েছিলেন। যুদ্ধের আগে সম্রাট তাঁর সৈন্যদের বলে দিয়েছিলেন যেন আর্কিমিডিসকে হত্যা করা না হয়। তিনি গুণের কদর করতেন।

আর্কিমিডিসের কারণে বার বার হেরেছেন তিনি। আর্কিমিডিসের তৈরি আয়না পুড়িয়ে মেরেছে রোমান সৈন্যদের, তাঁর অদ্ভুত যন্ত্র ডুবিয়ে দিয়েছে বহু জাহাজ। তবু আর্কিমিডিসের প্রতি ক্ষিপ্ত নন সম্রাট। বরং এই গুণী মানুষটিকে একবার স্বচক্ষে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার ইচ্ছে পূরণ হয়নি।