মেইন ম্যেনু

ভুয়া খবর বোঝার উপায়

চারিদিকে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। সব অনলাইন সংবাদমাধ্যম সঠিক খবর পরিবেশন করে তা নয়। কিছু কিছু ভুয়া ওয়েবসাইটও আছে, যারা ভুয়া খবর পরিবেশন করে সবাইকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখে। কিন্তু এত সব সংবাদের ভিড়ে আসল সংবাদ জানা খুবই কঠিন। গত বছর মার্কিন নির্বাচনে ভুয়া সংবাদের প্রভাব স্পষ্টভাবে সবার সামনে ধরা দেয়।

কীভাবে বুঝবেন যে সংবাদ আপনি পড়ছেন বা যে সাইটে আপনি যাচ্ছেন তা ভুয়া? এ বিষয়ে আমেরিকার সংবাদ সংস্থা বিজনেস ইনসাইডার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ৭ উপায় বের করেছে।

সম্পূর্ণ খবর পড়ুন : খবরের শিরোনাম দেখেই তা শেয়ার করা শুরু করবেন না। যখন কোনও গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখবেন তখন অবশ্যই সম্পূর্ণ খবরই পড়বেন।

বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন ফেসবুক, টুইটারে শেয়ার করা খবরের বেশির ভাগই ব্যবহারকারী শিরোনাম খেয়াল করে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খবর দেখলে অবশ্যই ক্লিক করুন।

ওবেসাইটের ঠিকানা খেয়াল করুন : বেশির ভাগ ভুয়া সংবাদ সংস্থা আসল সংস্থার লোগো, ওয়েবসাইট ঠিকানা নকল করে। যেমন, এবিসি.কম.কো। ঠিকানা দেখে এবিসি নিউজের মনে হলেও এটা সম্পূর্ণ ভুয়া। সেক্ষেত্রে এই ঠিকানায় যদি খবর দেওয়া হয়, কোনও এক বিশেষ ব্যক্তি ট্রাম্পের প্রচারণায় প্রচুর টাকা দিয়েছেন, তবে অবশ্যই বুঝবেন তথ্যটি সত্য নয়। একইসঙ্গে সিএনএন ট্রেন্ডিং.কম, ওয়াশিংট পোস্ট.কম.কো ভুয়া ওয়েবসাইট। তাই শেয়ার করার মতো কোনো খবর পেলে অবশ্যই ওয়েবসাইট ঠিকানা দেখে নিতে হবে।

সংবাদদাতা সম্পর্কে জানুন : কোনো সংবাদ বা খবর আপনার সামনে এলে অবশ্যই দেখে নেবেন সংবাদদাতার নাম। নিজেকে প্রশ্ন করবেন, সংবাদ লিখেছে কে? একই লেখকের আর কোনো লেখা আছে কিনা। যদি তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উপায় থাকে তবে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন। নাম না থাকলে জানার চেষ্টা করুন কেন তারা আড়ালে থাকতে চায়।

খবরের সূত্র জানার চেষ্টা করুন : সাধারণত সত্যিকারের সংবাদসংস্থা খবর পরিবেশনের সময় তাদের সূত্র তুলে ধরে। তথ্য হয়তো কোনো সরকারি কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা বা সংস্থা প্রধানের বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। এ সূত্র খবরের ভেতরে উল্লেখ থাকে। যদি কোনো সূত্র না থাকে তাহলে বের করার চেষ্টা করুন তথ্য তারা কীভাবে জানলো। হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় কিছু ভুয়া সংবাদ ইনটারনেটে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু সংবাদে হিলারির বিরুদ্ধে যে দাবি করা হয় তার কোনো যথাযথ প্রমাণ ছিল না। দেখা যায়, অপরিচিত ভুয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে খবর পরিবেশন করা হয়।

অন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খবর মিলিয়ে দেখুন : কোনো খবর দেখার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্বাস করবেন না। আগে দেখে নিন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও একই খবর প্রকাশ করছে কিনা? খবর দেখার পর যদি মনে হয় সবাইকে জানানো উচিত তবে অবশ্যই দুই থেকে তিনটি সংবাদমাধ্যমে খবর মিলিয়ে নিন।

মার্কিন নির্বাচনের সময় পোপ ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল ইনটারনেটে। কিন্তু একই খবর আপনি নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এপি বা ইউএসএ টুডেতে পাবেন না। এমন এক ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন যা কখনও আগে দেখেননি। যদি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ হয়ে থাকে তবে তা আপনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখতে পারবেন।

সংবাদের মান খেয়াল করুন : যে সংবাদ আপনি পড়ছেন তার মান খেয়াল রাখুন। সবগুলো লেখা কি বড় অক্ষরের? লাল কালির ব্যবহার কি বেশি? বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার হচ্ছে বেশি? অধিকাংশ বৈধ সংবাদমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনে মান রক্ষা করে চলে। খবরে ভাষার ব্যবহার হয় ভিন্ন। বানান ভুল থাকে না। তাই এ বিষয় লক্ষ্য করুন।

ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানুন : যে ওয়েবসাইট থেকে আপনি সংবাদ পড়ছেন তাদের সম্পর্কে জানুন। খেয়াল করুন অ্যাবাউট আস নামে কোনো অপশন আছে কিনা? তাদের অফিসের ঠিকানা, মালিক, সম্পাদক সবার সম্পর্কে জানুন। কিছু কিছু ভুয়া ওয়েবসাইট কোনো স্থানের সঙ্গে মিলিয়ে নিজেদের সংস্থার নাম রাখে। যেমন, ডালাস স্টার নিউজ। কিন্তু ডালাসের স্থানীয়রা শুধু জানে তাদের এলাকায় এ নামে কোনো সংস্থা নেই। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার।