মেইন ম্যেনু

ভূমিকম্পের পর মসজিদে মুসল্লিদের ভিড়!

ভূমিকম্পের পর আজকে ফজর নামাজের সময় রাজধানীর মসজিদগুলোর চিত্র ছিলো একেবারেই আলাদা। অন্যান্য দিন মুসল্লি কম থাকলেও আল্লাহর ভয়ে আজ অনেকেই নামাজ পড়তে আসেন। ফলে মসজিদগুলো ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।

ভোরে ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে দেশের অধিকাংশ মানুষ তখন গভীর ঘুমে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে আতঙ্কে জেগে ওঠে মানুষ। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানুষজনকে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসে ঘুমভাঙা মানুষ। চোখে ঘুম নিয়েই ভয়ে-আতঙ্কে বাসি-বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে তারা এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।

এরপরই রাজধানীর মসজিদগুলোতে ফজরের আজান শুরু হয়। ভূমিকম্পের আতঙ্ক কেটে যাওয়ার পর মানুষ মসজিদে আসতে শুরু করে।

অন্যান্য দিনগুলোতে ফজর নামাজের সময় রাজধানীর মসজিদগুলোতে মুসল্লি সংখ্যা খুবই কম থাকে। দুই তিন কাতার লোক হয়। কিন্তু ভূমিকম্পের আজকে মসজিদগুলোর চিত্র ছিলো ভিন্ন। কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো মসজিদ।

রাজধানীর শাহবাগে হাতিরপুল বাজারে পাশেই অবস্থিত বায়তুল মোমিন জামে মসজিদ। মসজিদটিতে যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন সেসব মুসল্লি ছাড়াও অনেকেই আজ ফজর নামাজ পড়তে এসেছিলেন। জানতে চাইলে এক মুসল্লি বলেন, আজকের মতো এতো মুসল্লি আর কখনো দেখি নাই। ভূমিকম্পের কারণে আল্লাহর ভয়ে অনেকেই আজ নামাজ পড়তে এসেছেন।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প হয়েছে ৫টার দিকে। আর ফজরের নামাজ ৬টা ১০ মিনিটে। কিন্তু নামাজের অনেক আগেই মসজিদ ভরে যায়।

নামাজের পর মসজিদের ইমাম ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরেক মুসল্লি জানালেন, আজ ফজরের জামায়াতে মসজিদে গিয়ে দেখি চতুর্থ কাতারেও স্থান পাচ্ছি না। যেখানে প্রতিনিয়ত দুই কাতার হওয়াঠাই কঠিন। যারা শুধুমাত্র শবে কদর নয়, শবে বরাতের দিন ফজরের নামাযে আসত, তাদেরকেও আজকে দেখা গেল ফজরের নামাজ মসজিদে এসে জামায়াতে আদায় করতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কাঁটাবন মসজিদেরও চিত্র ছিলো একইরকম। ভূমিকম্পের অনেকেই বাসায় না গিয়ে সরাসরি মসজিদে চলে আসেন। মুসল্লিরা সবাই বলাবলি করছিলেন, এত বড় ভূমিকম্প স্মরণকালে হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। আর এই ঝাঁকুনির ফল দেখলাম মসজিদে। ফজর নামাজে সম্ভবত এই প্রথম মসজিদ ভরে গেল। প্রতিদিন বড় জোর দুই কি তিন কাতার হতো।

নামাজের পর ইমাম সাহেব সংক্ষিপ্ত বয়ানে কেয়ামতের আলামতগুলো জানিয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহবানও জানান।