মেইন ম্যেনু

ভোলার তজুমদ্দিনে স্কুলের দলিল গায়েব করে সভাপতি কর্তৃক গাছ কাটার অভিযোগ

ভোলার তজুমদ্দিনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ন দলিলপত্র গায়েব করে সভাপতির বিরুদ্ধে গাছ কেটে নেয়াসহ নিয়মবর্হিতভাবে ৩৭ বছর ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে থেকে স্কুলের সম্পত্তি ভোগ দখল করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও সীমানা নির্ধারনের জন্য প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে প্রয়োজনীয় কাগজ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মধ্য চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শিশু ও মেহগনি কাঠ গাছ কাটা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে মালিকানার দ্বন্দ্ব চলছে। শনিবার সকালে স্থানীয় লেবার সর্দার মোঃ নোমান লোকজন নিয়ে স্কুল ভবনের পাশে ২ টি কাঠ গাছ কেটে নেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক এতে বাধা দেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহির হস্তক্ষেপে গাছ জব্দ রাখা হয়। সর্দার মোঃ নোমান জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী হায়দার চৌধূরীর নির্দেশে গাছ ২টি কাটা হয়েছে। পরে প্রধান শিক্ষক বাধাঁ দিলে গাছ কাটা বন্ধ থাকে।

এদিকে স্কুলের একাদিক অভিবাবক সদস্য অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হওয়ায় তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠার পর হতেই সভাপতির পদ দখল করে আছেন। প্রতি বছর নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে রেখে বারবার নিয়মবর্হিভুতভাবে সভাপতি হয়ে স্কুলের জমি ভোগ দখল করে রেখেছেন। এসব ব্যাপারে সদস্যরা কথা বলতে চাইলে তাদেরকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশ জমি আছে। দলিল পত্র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির হাতে রয়েছে। তিনি একটানা ৩৭ বছর দায়িত্বে আছেন। স্কুলের সিমানায় গাছ কাটার সময় বাধা দিলে সভাপতি মালিকানা দাবি করেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে গাছ নেওয়া বন্ধ থাকে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী হায়দার চৌধুরী জানান, পিতা ও আমরা ৩ ভাই স্কুলে ৫০শতাংশ জমি দান করি। বাতাসে গাছ ২টি পড়ে গেলে লেবার দিয়ে কেটে ফেলি। গাছের মালিকানা, দলিল পত্র ও জমির সিমানা নির্ধারন প্রসংঙ্গে জানতে চাইলে গাছ দুইটি নিজের দাবি করলেও জমির সীমানা ও দলিলপত্র ইতিপূর্বে কেউ বুঝ নিতে চায়নি বলে জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ জানান , স্কুলের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র অফিসে নিয়ে আসার জন্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ভুমি সহকারীর মাধ্যমে সীমানা নির্ধারনের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এরপর গাছ কাটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।