মেইন ম্যেনু

ভোলার তেতুঁলিয়া নদীতে ডুবোচর ও নাব্যতা সঙ্কটে

ভোলার তেতুঁলিয়া নদীতে অসংখ্য ডুবোচর ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে শশীভূষণ টু ঢাকা, ঢাকা টু লালমোহন ও ঘোষেরহাট টু ঢাকা রুটের প্রতিনিয়ত লঞ্চ এবং বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়া করার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এসকল ডুবোচর ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে অধিকাংশ সময় লঞ্চ ঘাটে ভিড়তে না পাড়ায় ছোট ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝায় করে ঝুঁকি নিয়ে ঘন্টাব্যাপী নদী পাড়ি দিয়ে লঞ্চে ওঠা নামা করতে হয় যাত্রীদের। এতেকরে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনীতি কর্মকান্ড- ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদীনির্ভর এসকল এলাকার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অচিরেই এ এসকল রুটে ড্রেজিং করা না হলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। জানা গেছে, প্রতিদিন ঢাকা টু শশীভূষণ, ঢাকা টু লালমোহন ও ঘোষেরহাট টু ঢাকা রুটে ১ টি করে মোট ৬টি লঞ্চ মালামাল ও যাত্রী নিয়ে চলাচল করে।

এমনকি এ রুটে প্রতিদিন বালু ভতি ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে জাহাজ চলাচল করে থাকে।এসকল রুটে অসংখ্য ডুবোচর ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে প্রতিনিয়ত লঞ্চ ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে । প্রায় সময় কোনো না কোনো ডুবো চরে লঞ্চ আটকে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। লঞ্চ একবার আটকে গেলে বিকল্প কোন সড়ক যোগাযোগের ব্যাবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তির আর শেষ নেই।

শুধু নাব্যতা সঙ্কটই নয়, এই রুটের নদী পথে অনেক স্থানেই প্রয়োজনীয় বয়া ও মার্কার বাতি না থাকার কারণে কুয়াশা ও ভাটার সময়ে লঞ্চ চালাতে বিপাকে পড়তে হয় চালক ও মাস্টারদের।লঞ্চ যাত্রী শাহাজাহ, মো.আলী, আঃরহিম সহ একধিক যাত্রীরা বলেন, বর্ষার সময় নদী ও খালে বেশি পানি থাকায় লঞ্চ চলাচলে তেমন একটা অসুবিধা হয় না। শীত এলেই তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের ডুবোচর, শশীভূষণ খলের প্রবেশ পথ, গজারিয়া খাল গোড়া,, কচুখালী খাল গোড়া,নাজিরপুর ঘাটের প্রবেশ প্থ সহ লালমোহন খালের ভেতর ফরাজগঞ্জে বড়ীঁর মাথা, চোটকীর ঘোল,সাতবাড়িয়া ঘোল সহ পুরো খালের লঞ্চ, জাহাজ ও মালামাল বাহীকাগো ঠেকে ঠেকে চলতে হয় ।

এতে সঠিক সময়ে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে স্থানে পৌছতে পারছেনা। ঢাকা থেকে কাঁচা মাল, ফল, তরুতরকারী ও মাছ সঠিক সময়ে না পোছার কারণে বাজার ধরতে পারছে না এখনকার ব্যবসায়ীরা । শশীভূষণ ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে দুপুর ২টায় লঞ্চ ছেড়ে সঠিক সময় ঢাকা গিয়ে পৌছতে দেরী হয়। লালমোহন ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিকাল ৪ টায় লঞ্চ ছেড়ে গেলেও নাজিরপুর ঘাট যেতে ১ ঘন্টার পথে কোথাও আটকে গেলে ৫ ঘন্টায়ও বের হতে পারে না ।

এতে করে ঢাকার সোয়ারীঘাট, কাপ্তান বাজার, মাছ পাঠাতে গিয়ে লেট হওয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয় বলে জানান মৎসব্যবসায়ীরা ।ঢাকা টু লালমোহন রুটের কর্নফুলি লঞ্চের ইন্সপেক্টর উজ্জ¦ল বলেন, ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার পরই তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। নাজিরপুর কয়েকটি ডুবোচর থাকায় অনেক সময়ই লঞ্চের পেছনের অংশ ডুবোচরে আটকে যায়।

আবার মাঝে মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ঘাটে আসতে হয়। লালমোহন খাল, তেতুঁলিয়া নদীর নাজিরপুর ঘাটের প্রবেশ মুখ ও কয়েকটি ডুবোচর রয়েছে যা দ্রুত ডেজিং করা প্রয়োজন হয়ে পরেছে । তা না হলে যে কোন মূহুতে এ রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।ঢাকা টু ঘোষেরহাট রুটের এমভি রাসেলর-২ ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম বলেন, এই রুটে কোথাও কোনো বয়া ও বাতি নাই।

এ ছাড়া ভাটার সময়ে জাহাজ অনেক স্থানেই ডুবো চরে আটকে যায়। সঠিক সময়ে ঘাট দেওয়া যায় না। তাই আমাদের জোয়ারের উপর নির্ভর করে লঞ্চ চালাতে হয় । শশীভূষণ টু ঢাকা রুটের এমভি জামাল-৩ ইন্সপেক্টর মো. ফরিদ জানান, আবার ডুবোচর ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে অধিকাংশ সময় লঞ্চ ঘাটে ভিড়তে না পাড়ায় ছোট ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝায় করে ঝুঁকি নিয়ে ঘন্টাব্যাপী পাড়ি দিয়ে লঞ্চে ওঠা নামা করতে হয় যাত্রীদের।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের ৫ কোটি টাকা ব্যয় করে বিআইডব্লিইটি এই নদী ও খালটি ড্রেজিং করা হলেও বাস্তবে তা বেশি কাজে আসেনি। আবার অনেক স্থানে ড্রেজিং করে পলি নদীতেই ফেলার কারনে আরো নতুন করে ডুবোচরের সৃষ্টি হওয়ায় সিকি পরিমান লাভ হয়নি।

এ জন্য বিআইডব্লিউটি এর কিছু অসাধু কর্মকর্তাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে ও নির্ধারিত নিয়মে খনন কাজ না করায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন খনন কাজের সঙ্গে জড়িতরা।এব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিউটির নিবার্হী প্রকৌশলী এ.জেড.এম শাহনেওয়াজ বলেন, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসকল নৌরুটের নদী খনন কাজ করা হবে।

তবে কবে নাগাদ তা শুরুকরা হবে তা জানাতে পারেনি তারা। ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, সরকারের কঠোর নজরদারি আর সঠিক নিয়মে এসকল রুটের নদী খনন কাজ করা না হলে বন্ধ হয়ে যাবে ওই রুটে লঞ্চ চলাচল।

এঅবস্থায় ড্রেজিং করানা হলে কিছু দিনের মধ্যে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে জেলার আমদানি-রপ্তানির বন্ধ হলে বিপদে পড়বেন দক্ষিণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ীরা। লঞ্চ স্টাফ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দাবি অতি দ্রুত এসকল রুটে ড্রেজিং করে লঞ্চ চলাচল সচল করা হোক।