মেইন ম্যেনু

ভোলার বোরহানউদ্দিনে খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ভোলার বোরহানউদ্দিনে প্রায় ১০ মাস ধরে খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে। উপজেলার গঙ্গাপুর আলম বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের কার্যক্রম টিনের ঝুঁপটি ঘরে পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নানা ভাবে বিরম্ভনার শিকার হচ্ছেন। এঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়াডের্র এই বিদ্যালয়টি বাঁশের খুঁটির উপর বিশ ফুট বাই দশ ফুট টিনের শেড দিয়ে কোন রকমে শ্রেণীকার্য চালাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। শ্রেণীর সাথে লাগোয়া এলজিইডির সড়ক দিয়ে যানবাহন চলছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০০। একটু মাঝারি ধরণের বৃষ্টি হলে পাশ্ববর্তী বাড়ির কাছাড়ি ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রায় শীত এসে যাওয়ায় সামনের দিন গুলোতে খোলা যায়গায় কিভাবে ক্লাস নিবেন এ নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকলিমা ও সফিক বলেন, নির্দিষ্ট ক্লাস রুম না থাকায় আমরা গাঁদাগাঁদি করে ক্লাস করতে হয়। তা ছাড়া বৃষ্টি আসলে পাশ্ববর্তী বাড়ির কাছাড়ি ঘরে আশ্রয় নিতে হয়।

সহকারী শিক্ষক নেয়ামুল কবির বলেন, নানা প্রতিকুল পরিবেশের কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছেন। মাত্র ২০০ বর্গ ফুটের মধ্যে পার্টিশন বিহীন ৫ টি শ্রেণীর পাঠদানে একটির সাথে আরেকটির পার্থক্য করা দুস্কর। এর সাথে আরেক ভোগান্তি হচ্ছে যানবাহনের শব্দ। প্রায় ১০ মাস ধরে এ অবস্থা চলছে।

অভিভাবক হারুন মিয়া, ফখরুল ইসলাম, আঃ বারেক, মো. সিরাজ বলেন, বাড়ির কাছে বিদ্যালয় হওয়ার কারনে সন্তানদের পড়াতে পারছেন। বর্তমান অবস্থায় এখানে পড়ানো আর না পড়ানো সমান কথা। সময় ও অর্থাভাবে অন্যত্র পড়ানোও সম্ভব হচ্ছেনা।

fileবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন দে বলেন, বর্তমান বিদ্যালয়ের বাঁশ টিনের কাঠামো ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে , কিন্তু আমরা নিরুপায়। তবে সংশ্লিষ্ট র্কতৃপক্ষ নজর দিলে একটু ভালো পরিবেশ পাওয়া সম্ভব।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল আমিন মিয়া বলেন, ভেরা ছাড়া টিনের ঝুঁপটি ঘরে পাঠদানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নানা ভাবে বিরম্ভনার শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা থেকে এ এলাকা পিছিয়ে পড়বে।

এ ব্যাপাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কেএম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সমস্যা নিরসনে অবিলম্ভে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবণার তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তয়িত হবে তা বলা যাচ্ছেনা।

নদী ভাঙ্গনের ফলে উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়ন থেকে বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে এস্থানে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে নির্মিত পাকা বিদ্যালয়ের ভবনটি প্রায় দেড় বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চি‎ি‎‎‎হ্নত করে। পাঠদানের কোন বিকল্প ব্যাবস্থা না করে এ বছরের শুরুর দিকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয় সংশ্লিষ্ট র্কতৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এ বিদ্যালয়ের নয়া ভবন নির্মিত হবে কেউ বলতে পারছেন না।