মেইন ম্যেনু

ভোলার বোরহানউদ্দিনে থেমে নেই কথিত জীনের বাদশাহদের প্রতারনার ব্যবসা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট এলাকার কথিত জীনের বাদশাহদের প্রতারনার ব্যবসা নিয়ে বহুবার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার পরও থেমে নেই তাদের প্রতারনা ।
বরং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতারনার ব্যবসা আরো সক্রিয় হয়ে উঠছে।
আর দিনদিন এই প্রতারনার সাথে যুক্ত হচ্ছে কিশোর,তরুন,যুবকসহ স্থানীয় মহিলা ও পুরুষ।
প্রতারনা বেড়ে উঠার কারনে সামাজে সংগঠিত হচ্ছে নানাবিধ অপরাধ। তরুন প্রজম্ম এসকল প্রতারনার কুফল না ভেবে হঠাৎই বিত্তশালী হওয়ার নেশায় দিনদিন অপরাধের দিকে ঝুকে পরছে।
প্রতারনার বিষয় নিয়ে জাতীয়,আঞ্চলিক এবং বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রতারনার বিষয়গুলো তুলে ধরলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রতারক চক্র আরো সক্রিয় হচ্ছে ।
নামমাত্র দু একজন প্রতারক পুলিশের হাতে আটক হয়ে কয়েক মাস জেল খাটলেও ছাড়তে পারেনি প্রতারনার ব্যবসা।
বিনে চালানে কোটিপতি হওয়ার নেশায় প্রতারনার হাল ছাড়তে পরছে না তারা।
আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ও পরিচালনা করছে এসকল প্রতারনামূলক কর্মকান্ড। বর্তমানে মহিলারা ও এ প্রতারানার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে ।
স্বামী ভদ্র বেশে হাটলেও স্ত্রীকে দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে জ্বীন সাধকের নামে প্রতারনার ব্যবসা। বিষয় গুলো যেন দেখার কেউ নেই।
অনেকে প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তার প্রতারনার ব্যবসা।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন আর এ এলাকায় দিন মজুর পাওয়া যায় না। যারা আগে রিক্সা চালক, দিন মজুর, কৃষক ছিল তারা এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক।
bhola-jin-pic-হাটাচলা দিনমজুরের মত হলেও পরিবর্তন এসেছে সংসারে। তাদের ছেলেরা এখন টাকার গরমে সামাজে সব ধরনের অপকর্ম করছে।
এই এলাকার এমনই একজন মান্নান দফাদার যিনি বছর কয়েক আগে ও এলাকায় রিক্সা চালক ছিলেন ।
তার ছোট ভাই আনোয়ার দফাদার ও একই ভাবে রিক্সা চালিয়ে সাংসারের ভরণ পোষন করত কিন্তু এখন হঠাৎই যেন তারা আলাদিনে চেড়াগ হাতে পেল ।
কোন কাজকর্ম না করেও হয়ে গেছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। স্থানীয় মিজির বাজার এলাকায় দুই ভাইয়ের রয়েছে বিলাশ বহুল কয়েকটি দোকান এবং দফাদার বাড়িতে রয়েছে বিলাশ বহুল ঘর।
কি কাজ করেন তারা প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
গোপন সুত্রে জানা যায়, রাতের আধারে তারা জ্বীন সাধনার নাম করে চালাছে কয়েকটি বন্ড দরবার ।
যে দরবারে সব রকমের সমস্যা সমাধান করা হয় এবং শতভাগ নিশ্চিত লটারী নাম্বার দেওয়া হয় বলে দরবারে প্রচার করা হয়। বিশ্ব আশেক কাপ্তান শাহ দরবার শরীফ,শাহী জৈনপুরী দরবার শরীফ,বায়েজীদ বাবার দরবার শরীফ নামের কয়েকটি দরবার শরীফের নামের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা ।
এ ভন্ড দরবার দিয়েই মাত্র চার বছরের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার সম্পতি গড়ে তুলছে।
এ রকম ভন্ড দরবার দিয়ে রিক্সা চালক,দিনমজুর,কৃষক থেকে কোটিপতি হয়েছেন স্থানীয় কুঞ্জেরহাট এলাকার, আকবর দফাদার, আনোয়ার দফাদার, মন্নান দফাদার, সোহরাব দফাদার, তজু মিয়া, মহিউদ্দিন দফাদার, বাবলু দফাদার, নোমান দফাদার, আফসার দফাদার, কাজল হাওলাদার, লোকমান রারী , বিল্লাল মুন্সি, মালেক মুন্সি, ছালেম মুন্সি, রুবেল বিশ্বাস, রিয়াজ হাওলাদার, শহিদ লাট, লোকমান ওসমান, মান্নান ও ওসমান নামের আরো অনেকে।
এসকল প্রতারনামূলক কর্মকান্ড থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জোড় দাবী এলাকাবাসীর।