মেইন ম্যেনু

ভোলার মনপুরার আবহাওয়া অফিসটি ৯ বছরেও কার্যক্রম চালু হয়নি !

ভোলা জেলার সব চেয়ে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এক দ্বীপ মনপুরা উপজেলা।এই উপজেলায় প্রায় ৯ বছর আগে একটি আবহাওয়া অফিসের জন্য আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। আর সেই ভবনটি পাহারা দিতে ২ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যকে নিয়োগ দেয়ায় সরকারের মাসে খরচ হচ্ছে ১৭/ ১৮ হাজার টাকা। ভোলার মনপুরাসহ সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে আর বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসকারীদের কাছে বিভিন্ন দুর্যোগের খবর পৌঁছে দেয়ার জন্য এই উপজেলার চর ফয়েজ উদ্দিনে একটি আধুনিক আবহাওয়া অফিস করার লক্ষে তিন তলা ভবন নির্মাণ করা হয় প্রায় ৯ বছর আগে। দীর্ঘ কয়েক বছর পার হলেও এটি আলোর মুখ দেখেনি আর বিভিন্ন দুর্যোগ এর পূর্ভাবাসও পায়নি এই এলাকার মানুষসহ সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা। তাই আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে যাতে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা হয় সে জন্য দাবী করেছে স্থানীয় জেলে ও বিভিন্ন দুর্গম চরের বসবাস করা মানুষেরা।

এদিকে কলাতলীতে বসবাসকারী মোঃ মামুন মাস্টার এবং সিপিসি’র ওয়ারলেস অপারেটর মোঃ শহীদুল ইসলাম। তার মতে আগের মতই সিপিসির কর্মীরা মাইক দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছে ও দুর্যোগের খবরা-খবর দিচ্ছেন।

জানা যায় ভোলার মনপুরার আবহাওয়া অফিসে গেলে প্রথমে দেখা যায় স্থানীয় মোঃ আজাদ ফরাজী আবহাওয়া অফিসের ভবনের নিচে জাল বুনছেন। তার কাছ থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন দেয়া হলো ভবনের নিরাপত্তায় থাকা ভিডিপি সদস্য মোঃ নজরুল ফরাজীকে। তিনি আসি বলে রেখে দিলেন। এক পর্যায় আলাপ করতে গিয়ে মোঃ আজাদ ফরাজী জানান,তিনি আবহাওয়া ভবনের বাউন্ডারির ভিতরের জমি চাষ করেন তিন ভাগের এক ভাগ দেয়া এবং বর্তমানে নগদ ৬ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে। এই টাকা দেয়া হচ্ছে ভবনের নিরাপত্তায় থাকা ভিডিপি সদস্যদের। অপদিকে পাহারাদারদের বেতন বাবদ মাসে রাষ্ট্রের খরচ হচ্ছে প্রায় ১৭/ ১৮হাজার টাকা। ৩ তলা ভবনে এই আবহাওয়া অফিস। ভেতরে গেলেই দেখা যায়,সব মিলিয়ে ৬টি কক্ষের মধ্যে একটি ভিডিপি সদস্যদের থাকার জন্য, আর বাকি গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মনপুরায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার জন্য ২০০৬ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও আজ পর্যন্ত এর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়নি। এমনকি আবহাওয়া বার্তা তো দূরের কথা মাইকিং করার মাইক পর্যন্ত নেই।

এ বিষয় কর্মরর্ত ভিডিপি সদস্য মোঃ নজরুল ফরাজী জানান,এটা পরিস্কার করে লিজ দেয়া হয়েছে। লিজের টাকা নিজেরাই ভোগ করছেন। সরকারি ফান্ডে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৮/১০বছর পূর্বে আবহাওয়া অফিসের জন্য ৩ তলা আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালু করা হয়নি। তবে ভবন দেখাশুনার জন্য আমরা ২জন ভিডিপি সদস্য রয়েছি। প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৮হাজার ৫২০টাকা। কোন কাজ নেই আমাদের।

এবিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন খান বলেন,মনপুরার আবহাওয়া অফিস কোন কাজেই আসছে না স্থানীয়দের। শুধু দু’জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে যারা ভবনটি পাহারা দিচ্ছে। তবে এটি চালু হলে সাগর মোহনায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলে আর চরাঞ্চলে বাস করা মানুষদের উপকার হত। তাই দ্রুত কার্যক্রম চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।