মেইন ম্যেনু

ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশের আকাল

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেদের হাতে টাকা নেই। মহাজন, পাওনাদার ও এনজিওর দেনায় জর্জরিত জেলেরা নদীতে ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। জেলা মৎস্য অফিস জানায়, ভোলায় ৮৮ হাজার ১২৮ জন জেলে রয়েছেন।

নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সাহায্য ভাগ্যে জোটে ৫২ হাজার ১৫০ জেলের। সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা, তুলাতলি, জনশংন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিনের হাকিমদ্দিন, মির্জাকালু, তজুমদ্দিনের চৌমহনী, লালমোহনের কামারখাল, গজারিয়া, পাঙ্গাসিয়া, চরফ্যাশনের বেতুয়াঘাট ও গাছিরখালসহ কয়েকটি জেলেপল্লীর, অনেক পরিবারের সদস্য না খেয়ে জীবনযাপন করছেন। অভাব, দুঃখ ও দারিদ্র্য তাদের ঘিরে রেখেছে। তারপরও রয়েছে পাওনাদার ও এনজিওর কিস্তির টাকার চাপ। অনেক জেলে দেনার ভয়ে সংসার ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ভোলা সদরের ইলিশা এলাকার জেলে সবুজ মাঝি, আরিফুল মাঝি, কাজল মাঝি, শরিফ মাঝি ও বসু মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর কয়েক দিন নদীতে ভালো ইলিশ শিকার করেছি। এর পর থেকে আর তেমন ইলিশ পাই না। অনেক টাকা দেনা হয়েছে।

দৌলতখাঁন উপজেলার জেলে সুজন মাঝি, হিরন মাঝি ও মনির মাঝি জানান, মেঘনা নদীতে ইলিশ না পেয়ে অনেক টাকার দেনায় ডুবে আছি। দুই বেলা পেট পুরে ভাত খাওয়ারও জোগাড় নেই। তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর জেলে সুমন মাঝি, জাকির মাঝি ও জিলন মাঝি জানান, দিনে নদীতে জাল বেয়ে বড়জোর দুই থেকে তিনটি ইলিশ পাই। এ আয় দিয়ে সংসার চালাতে পারি না। ধার-দেনায় অস্থির হয়ে পড়েছি।

ভোলা ইলিশা মৎস্য আড়ৎদার ইউসুফ জানান, জেলেরা সারা দিন নদীতে নেমে এক থেকে দুইটির বেশি ইলিশ মাছ পান না। অনেক জেলেকে আমরা দাদন দিয়েছি। নদীতে মাছ না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার জানান, এখন নদীতে তেমন একটা মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে।