মেইন ম্যেনু

ভোলার সম্ভাবনাময় শিল্প রশি

ফজলে আলম, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার সদর উপজেলার এক সময়ের অবহেলিত জনপদ চরসামাইয়া ইউনিয়ন। সেখানকার অনেক অবহেলিত নারীরা শহরে এসে ভিক্ষা করত। আর পুরুষরা রিক্সা চালাত। কিন্তু এখন আর তাদের ঐ পেশায় দেখা যায় না। তাদের চোখের সামনে স্বপ্ন হয়ে দাড়িয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প। হোগলা পাতা দিয়ে মুড়িয়ে মুড়িয়ে রশি( দরি) বানিয়ে তা ঢাকায় পাঠানো হয়। আর সেখানে তৈরী হয় মোড়া, চেয়ার, ব্যাগ সহ হাজার রকমের শো-পিজ। যা রপ্তানী করা হয় বিদেশে।

একদিকে যেমন ব্যবসা অন্যদিকে শ্রমিকরা কাজকরে হচ্ছে স্বাবলম্বী। স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পোর মালিক হাসান, জাফর, বলেন, চরের থেকে হোগলা কিনে এনে শ্রমিকদেরকে দেই তারা রশি তৈরী করে। প্রতি একশ হাত রশির মজুরী ০৮ টাকা করে দেই। রশি গুলো সাভার ও গাজীপুর নিয়ে বিক্রি করি ১৮ টাকা দরে। ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, সরাসরি বিদেশে পাঠানো গেলে অনেক বৈদেশিক মদ্রা আয় করা যেত। বেপারী সিরাজ বলেন, অনেক আগে আমরা কিছু লোক ঢাকায় নিয়ে কাজ শিকাইছি। কিন্তু বিদেশে রপ্তানী না করতে পারায় হতাশ তারা।

এদিকে কয়েকজন নারী শ্রমিক বলেন, আমরা যদি আর একটিু বেশি মুজুরী পেতাম তবে সব কাজ ফ্যালাইয়া রশি বানাইতাম। তার পরে সুকুর করেন আমেনা বেগম বলেন, রশির কাম আছে দেইখাই খয়রাত করা ছাইরা দিছি। আল্লাহ অনেক সুখে রাখছে অহন। এমন শতাধিক পরিবার আছে চরসামইয়া ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামে। এমককি স্কুলের ছাত্রীরাও অবসর সময়ে রশি বানায়। রশি তৈরী স্থানীয় কোন এনজিও ঋণ দেয় কিনা জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, মুজুরী কম বইল্যা কেউ সাহায্য করে না এবং সাহায্য করতে আসেও না। তবে ভোলা বিসিকের উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন বলেন, আমরা রশি তৈরীর বিষয়টি অবহিত হয়েছি। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রাপ্তিতে সাহায্য করবো।