মেইন ম্যেনু

ভোলায় নতুন করে ভয়াল রূপে মেঘনা, বিলীন হচ্ছে হাজার হাজার বাড়ি-ঘর

ভোলার ইলিশা ইউনিয়নের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে তালতলী লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নতুন করে মেঘনায় ভাঙতে শুরু করেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীর তীরবর্তী বাড়ি ঘরের মানুষগুলো।গত ২/৩ দিনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে নতুন ফেরিঘাট, তালতলী লঞ্চঘাট, পুরাতন ফেরিঘাট সড়কসহ হাজার হাজার ঘরবাড়ি। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও বড় ধরনের স্রোতের ঘোল সৃষ্টি হওয়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যার ফলে ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন মানুষ। তবে, ভাঙন রোধে সাধ্য মতো কাজ করে যাচ্ছে পাউবো।

জানা যায়, ইলিশা ইউনিয়নের তালতলী লঞ্চঘাট এলাকা দিয়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানকার মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কেউ ব্যস্ত দোকানপাট সরাতে কেউ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার পয়েন্ট দিয়ে তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা।তালতলী লঞ্চঘাটের ইজারাদর জানান, বর্ষায় মেঘনার তীব্র ভাঙন শুরু হলেও গত ২দিন ধরে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা অব্যাহত থাকলেও দু’একদিনের মধ্যে লঞ্চঘাট বিলীন হয়ে যাবে।

ভাঙন কবলিত এলাকার মৎস্য আড়ৎদার খোকন মোল্লা জানান, হঠাৎ করেই ভাঙন বেড়েছে। দু’দিনে ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়েছে গেছে অন্তত ৪শ মিটার এলাকা।ভাঙন কবলিত এলাকার সামসুদ্দিন, আজিজল মাঝি, আবুল কাসেম ও সালাউদ্দিন জানান, যে হারে ভাঙছে তাতে ঘরবাড়ি সরানোর সময় পাচ্ছে না মানুষ। এ মুহূর্তে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তোফাজ্জল হোসেন, শাজাহান ও আবদুর রহমান জানান, ভাঙন শুরু হলে প্রটেকশন কাজ শুরু হয়, যদি ভাঙনের আগে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে মানুষকে এভাবে বিপদের মধ্যে পড়তো হতো না।এলাকাবাসী জানান, জোয়ারের সময় ভাঙন কিছুটা কম হলেও ভাটার সময় তীব্র ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বড় বড় তীর ধ্বসে পড়ছে নদীতে। মানুষজন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘর সরিয়ে নিলেও ফের শুরু হয় ভাঙন।ইলিশা ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকা থেকে এখন তালতলী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন।

তবে, চড়ার মাথা পয়েন্ট দিয়ে ভাঙন রোধে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ করলেও বন্ধ হচ্ছে না এ ভাঙন।নদীর এ ভাঙন অব্যাহত থাকলে ৩টি মৎস্য আড়ৎ, জংশন বাজার, ২টি মসজিদ, শত শত ঘরবাড়ি, বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে।

এতে হুমকির মুখে পড়বে ভোলার ৬টি ইউনিয়নসহ জেলা সদর। যে কোনো মুহূর্তে প্লাবিত হতে পারে পুরো এলাকা।এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম জানান, ভাঙন রোধে ৩২০ মিটার এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাক ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং আরো ৮০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। তবে নদী যে হারে ভাঙছে তাতে ৫ থেকে ৬শ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে হবে।তিনি জানান, ভাঙন রোধ না হওয়ায় পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড সব ধরনের পদক্ষেপ নিবে। এতে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।