মেইন ম্যেনু

ঘুর্নিঝড় আতংকে কয়েক লাখ মানুষ

ভোলায় পানিতে প্লাবিত গাছ চাপা পড়ে মহিলা নিহত

ভোলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘুর্নি ঝড়ে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের চর কচুয়াখালীর গ্রামে ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে গাছ চাপা পড়ে গাছ চাপা পড়ে সোবাহান মোল্লার স্ত্রী মনজুমা বেগম (৫৫) বুধবার রাতে নিহত হয়েছে। এদিকে ঘুর্ণি ঝড় কোমেন উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার খবরে ভোলার দুর্গম চরাঞ্চরের কয়েক লাখ মানুষ এখন চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। ঢাল চরে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে উঠছে। এদিকে ঘুর্নিঝড়েরর প্রভাবে গত রাত থেকে ভোলার উপর দিয়ে থেমে থেমে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে ।

সকাল থেকে সাগর কোলের দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ভারি বৃষ্টি ও বাতাস বইছে। এছাড়া চরফ্যাসন উপজেলার পর্যটন এলাকা কুকরী মুকরী ও ঢাল চরে রাতে ঝড়ে বাতাসে গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। কুকরীতে সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বাতাস বইছে। চরাঞ্চল গুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে কয়েক ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ ঘুর্ণি ঝড়ের আতংকে এখন দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপদ জনক এলাকার চরাঞ্চল থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতো মধ্যে মাইকিংসহ সর্তক সংকেত জারি করে এলাকায় পতাকা উড়ানো হয়েছে।
অপর দিকে ভোলা থেকে লক্ষীপুর রুটে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাকসহ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।ঢাকাগামী লঞ্চ ও মাছ ধরা ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে সড়িয়ে ফেলা হয় । অন্যদিকে অনেক যাত্রী ইলিশা ফেরি ঘাটে এসে লঞ্চ সি ট্রাক না চলার করনে দুর্ভোগে পড়েছে। এদিকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত কারনে ভোলা-লক্ষীপুর রুটে লঞ্চ সিট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা উত্তাল মেঘনায় ট্রলার চলাচল করে যাত্রী পাড়াপাড় করছে।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, ভোলায় এখন বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে।

এদিকে ভোলা ঘুর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর উপ পরিচালক, মোঃশাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, জেলার ঘুর্নিঝড় মোকাবেলায় ৬০৩ ইউনিটে ৯ হাজার ১৩৫ জন সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।

ভোলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন জানান, ঘুর্নিঝড় মোকাবেলা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকে গত রাতে জরুরী সভা করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ঘুর্নিঝড় হলে উদ্ধারের জন্য বোট গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।