মেইন ম্যেনু

ভোলায় ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার পর এবার বাস ধর্মঘট দুর্ভোগে যাত্রীরা

মেঘনার ভাঙনে ঘাট বিলীন হওয়ায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায়। দুটি সি-ট্রাক ও একটি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এর মধ্যেই শনিবার সকাল থেকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক সড়কসহ অন্তত ১০টি সড়কে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট ডেকেছে ভোলা বাস মালিক সমিতি। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গত ২৫ জুলাই বরিশাল- ভোলা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভোলা সদর উপজেলার চডারমাথা থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকা মেঘনায় ভেঙে যায়। এতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিআইডব্লিউএর চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ২৮ জুলাই ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন কলে তিনি বলেন, ইলিশার পাশে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে নতুন ঘাট নির্মাণ করা হবে।

ভোলা ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আলম হাওলাদার বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোলার লক্ষাধিক মানুষ চাকরী করার সুবাধে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথ বেশী ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। এ কারণে ফেরি চলাচল বন্ধের পর এ পথে দুটি সি-ট্রাক ও কুতুবদিয়া নামে সাগরে চলাচল উপযোগী একটি লঞ্চ চালানো হচ্ছে। এসব নৌযানকে নির্ধারিত ট্রিপের বেশি ট্রিপ দিতে হচ্ছে। যদিও ভোলা-চট্টগ্রাম সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী অনেক কমে গেছে।

চরফ্যাশন থেকে ভোলার রফরিঘাটে আসা কাশেম (৩৮) বলেন, তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারেননি। গতকাল আবহাওয়া একটু ভালো হয়। তবে শুরু হয় ভোলা-চরফ্যাশন বাস ধর্মঘট। শুধু ধর্মঘট এমন নয়, ভোলা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে আড়াআড়িবাস রেখে অবরোধ করা হয়েছে। এ জন্য তাঁকে ভেঙে ভেঙে অটোরিকশা- টেম্পো দিয়ে ভোলায় পৌঁছাতে হয়েছে। এতে তাঁর ১৩০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ৩৩০ টাকা খরচ হয়েছে।

আবুল হাশেমের মতো শত শত যাত্রী দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে ভোলা ফেরিঘাটে আসছেন। চরফ্যাশন, লালমোহনসহ ভোলার ছয় উপজেলার ১০টি সড়কপথের বাসস্ট্যান্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক যাত্রী বাস ধর্মঘট দেখে আবার বাড়িতে ফিরে গেছেন।
দূরপাল্লার বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি আবু মিয়া বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার বাসগুলো চরফ্যাশনসহ বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী নিয়ে পূর্বনির্ধারিত ভাড়ায় ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ভোলার বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা গত বৃহস্পতিবার বাস ভাঙচুর করে চলাচল বন্ধ করে দেন। আবার শুক্রবার থেকে বাস ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

ভোলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, দূরপাল্লার বাস মালিক সমিতিসহ তিন চাকার গাড়ির চালকেরা নীতিমালা উপেক্ষা করে যাত্রী বহন করছেন। এতে তাঁদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনাও বাড়ছে। এর প্রতিবাদে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধসহ ভোলার ১০টি সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁদের দাবী না মানলে ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ তোলা হবে না।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন বলেন, (রোববার) ভোলা বাস মালিক সমিতি ও দূরপাল্লার বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বৈঠক হবার কথা থকলেও বরিশালে জেলা প্রশাসকে বৈঠক থাকায় তা আজকের বৈঠক হয়নি । আগামীকাল আশা করি, বৈঠকে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।’