মেইন ম্যেনু

ভোলায় বেশী দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে

ভোলায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে সরবরাহকারী সমিতি। এতে ভোক্তাদের বেশি দামে জালানী তেল কিনতে হচ্ছে।

সরকারি দর অনুযায়ী, খুচরা বাজারে অকটেন প্রতি লিটার ৯৯ টাকা, পেট্রল ৯৮ টাকা ও ডিজেল ৬৮ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। তবে ভোলায় অকটেন ও পেট্রল ১০২-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিজেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়।

আবার বেশি দাম দিলেও অনেক স্থানে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় জ্বালানি তেল কেনা- বেচা বন্ধ করে দিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

জানতে চাইলে চরফ্যাশন উপজেলা জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্যাহ বলেন, ১০ দিন ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী ট্যাঙ্ক-লরিমালিকেরা জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে এক ব্যারেল ডিজেলের দাম ছিল ১৩ হাজার ২০০ থেকে ১৩ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার ৬০০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতারা জ্বালানি তেল কিনছেন না।

এছাড়া ভোলা সদর খুচরা জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, সরকার তেলের দাম না বাড়ালেও স্থানীয় সরবরাহকারীরা ব্যারেল প্রতি ৪০০ টাকা বাড়িয়েছেন। বেশি দামে তেল বিক্রি করতে গেলে ক্রেতার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এ কারণে তাঁরা তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে ভোলা সদর উপজেলা খুচরা জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীরব মিয়া বলেন, ‘এক ব্যারেলে তেল দেওয়ার কথা ২০০ লিটার।কিন্তু দাম বাড়ানোর পরও আমরা পাচ্ছি ১৯৪-১৯৫ লিটার। বাকি তেল কম দিচ্ছে। এতে এক লিটার ডিজেল ৭০ টাকায় কেনা পড়ছে। তাহলে বিক্রি করবে কত দামে। ক্রেতারা বেশি দরে তেল কিনছে না।’

জ্বালানি তেল সরবরাহকারী ও ট্যাঙ্ক-লরিমালিক সমিতির সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন মিয়া বলেন, তাঁরা বরিশাল-ঝালকাঠি ডিপো থেকে এক লিটার ডিজেল কেনেন ৬৬ দশমিক ৬১ টাকায়। নয় হাজার লিটারের এক লরি তেল কিনলে কমপক্ষে প্রায় ১০০ লিটার তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে প্রতিবারে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহকারীরা লোকসানে ব্যবসা করছেন। তাঁরা সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্যেই বিক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনো বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
সরবরাহকারী সমিতির কয়েকজন সদস্য বলেন, বরিশাল ও ঝালকাঠির ডিপোর মালিকেরা তাঁদের জিম্মি করে একচেটিয়া ব্যবসা করছেন।

তাঁরা বলেন, ভোলায় প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ লিটার জ্বালানি তেল দরকার। দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে ভোলায় তেল আনতে লাইসেন্সধারী পরিবেশকদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। সরকার সে জন্য কোনো বাড়তি ভর্তুকি দিচ্ছে না।

এ জন্য তাঁরা বাড়তি দরে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার ভোলায় একটি ডিপো স্থাপন করলে এ সমস্যা থেকে ভোলার লোকজন মুক্তি পাবেন।

জানতে চাইলে ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা বলেন, সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি। ভোলার ব্যবসায়ীরা কেন বাড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ ভোলায় জ্বালানি তেলের ডিপো স্থাপনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে লিখব।