মেইন ম্যেনু

ভোলায় ভারী বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, জন দুর্ভোগ মৌসুমী ফসলের ক্ষেত নষ্ট

কয়েকদিনের টানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে ভোলার ৭টি উপজেলার নিন্ম এলাকা ডুবে গেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

বৃস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া এ বর্ষন দুপুর ১টা পর্যন্ত চলছিলো। অতিবর্ষনে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত, বসত ঘর, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া টানা বর্ষণে ভোলার ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, তুলাতলী, ধনিয়া, রাজাপুর সহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার একর জমির ফসলের ক্ষেত।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু প্রবল থাকার কারণে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের সকল সমদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ভোলা শহরের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সদর রোডের সড়ক ছাপিয়ে বৃষ্টির পানি দোকানপাট-ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়েছে। পথচারীদের অনেকেই পানি ডিঙিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন৷
জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে যানজট। এছাড়া পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বাস, রিকশা ও অটো রিকশায় আদায় করা হচ্ছে দু-তিন গুণ বেশি ভাড়া।

টানা বর্ষণের ফলে বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ফসলি জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন বর্ষণ অব্যাহত থাকালে কোন ক্ষেতই অক্ষত থাকবেনা বলে জানিয়েছে কৃষকরা। মৌসুমী ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম জানান, কয়েক দিন ধরে নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষনের কারনে তলিয়ে গেছে ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ফেরীর গ্যাংওয়ে ও সংযোগ সড়ক। এতে ফেরীতে যানবাহন উঠা-নামা বিঘের সৃষ্টি হচ্ছে।

অপরদিকে ভোলায় ভারী বর্ষনে উপকূল ও দুরবর্তী চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর পাতিলা, লালমোহনের পেয়ারী মোহন, লর্ডহার্ডিঞ্জ, কচুয়াখালীর চর, মনপুরা উপজেলার কলাতলীর চর, দাসেরহাট, চর নিজাম ও ঢালচর, দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া, বৈক›ন্ঠপুর, নেয়ামতপুর, হাজিপুর, মদরপুরা, ভোলার সদর উপজেলার রামদাসপুর, মাঝের চর।

এছাড়াও ভোলা শহরের পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। বৃষ্টির কারনে অনেকেই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান কালাম পাটোয়ারী বলেন, টানা বর্ষনে ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।কুকরী-মুকরী ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, রাত থেকে ভারী বর্ষন শুরু হয়। এতে আমিনপুর, বাবুগঞ্জসহ বেশ কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে।