মেইন ম্যেনু

ভোলায় মহিষের দুধের দই রফতানি হচ্ছে বিদেশে

মোঃ ফজলে আলম, ভোলা থেকে: ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মহিষের দুধের দই রফতানি হচ্ছে বিদেশে। ভোলা, মেঘনা ও তেতুলিয়ার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের মহিষের দুধের দই ভোলাসহ দেশে বেশ জনপ্রিয়। দুধের উৎপাদন কম হলেও এর চাহিদা থাকে অনেক বেশি। তাই বেশ লাভবান দই বিক্রেতা আর গোয়ালারাও। যে কারণে দেশের বাহিরেও রফতানি হচ্ছে মহিষের দুধের এই দই। তবে লবন পানি, ঘাসের স্বল্পতা, স্বাস্থ্যসেবা আর চোরের উপদ্রপই হচ্ছে এখন প্রধান সমস্যা।

মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মাঝখানে সৌন্দর্যের রানী হিসেবে আখ্যায়িত এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ দ্বীপজেলা ভোলা। আর এসব নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অন্তত অর্ধশতাধিক মহিষের খামার। যেসব খামারে এক একজন মালিকের রয়েছে শত শত মহিষের পাল। আর তেমনি একটি চর হচ্ছে মূল-ভূখন্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন মদনপুর, ভোলার চর। তেমনি মনপুরার কোল ঘেষা পাতার চরও। আর সেই চরে রয়েছে একাধিক ব্যক্তির খামার। যে খামারে রয়েছে শত শত মহিষের পাল। বাতানদের সাথে মহিষের এক বিশেষ সম্পর্ক। সকালে খামারের বাতানেরা ঐ মহিষগুলো যখন ছেড়ে দেয় তখন বাতানদের রাখা মহিষের বাহারি ধরনের রাখা নাম ধরে ডাক দিতেই সারা দেয় আর ঐ মহিষের বাচ্চাটি ছুটে যায় তার মায়ের কাছে। এটি যেন বাতানদের সঙ্গে ঐ মহিষগুলোর অসাধারণ এক সম্পর্কের প্রতিফলন। তবে তার আগে বাতানেরা মহিষের দুধ সংগ্রহ করে নেয়। এজন্য তারা বাঁশের তৈরি বিশেষ এক ধরনের পাত্র ব্যবহার করে থাকেন। এক একজন বাতান ২ থেকে ৩ শত করে মহিষ রাখেন। সব কিছুর পরেও লবন পানি, ঘাসের স্বল্পতার পাশাপাশি এসব মহিষের স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া আর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মহিষ চুরি করে নেয়ার ঘটনা প্রধান সমস্যা বলে দাবী বাতান ও মহিষ মালিকদের।

খামার মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, লবণাক্ত পানি ও ঘাস কমের কারণে দুধ কম হচ্ছে। অনেক সময় বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। সময় মত ডাক্তার পাওয়া যায় না। তারা আসেন না। তাদেরকে গিয়ে আনতে হয়। ওষুধপত্র পাওয়া খুবই কঠিন। তবে মহিষের দুধের সুনাম ভোলা নয় দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই দধির কদর অইেশ বেশি। দুধ বিক্রি করে অনেক লাভবান হচ্ছি আমরা। তবে তিনি সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন।

ভোলার চরাঞ্চলের মহিষের দুধের তৈরি টকদই রফতানি হচ্ছে বিদেশে অপরদিকে ঐ মহিষের দুধ প্রতিদিন এসব চর থেকে ট্রলারে করে গোয়ালেরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি অথবা ২ হাজার টাকা মন দরে ক্রয় করে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দুধের মণ বিক্রি করেন। যে কারণে দুধ কম হলেও দাম বেশি হওয়াতে লাভবান হচ্ছেন গোয়ালারা।

তবে এসব চর থেকে ঘোয়ালরা ভোলা শহরের ঘোষপট্টি নামক স্থানে প্রতিদিন দুধ নিয়ে আসেন বিক্রি করতে। তখন প্রায় দোকানের সামনেই ব্যস্ত সময় পার করেন ক্রেতা আর বিক্রেতারা। দোকানীরা সেই দুধ ক্রয় করে দধি তৈরি করেন। ভোলার ঘোষপট্টির এক দোকানী শেখ ফরিদ বলেন, ভোলার মহিষের দুধের টকদধি বেশ জনপ্রিয়। সারা বছরই মহিষের দুধ পাওয়া গেলেও শীতে এই দুধের তৈরি টকদধির চাহিদা বহু গুন বৃদ্ধি পায়। দুধ কম আর দাম বেশি হলেও চাহিদায় কমতি থাকে না। কারণ এই সময় বিয়েসহ অনুষ্ঠানাদি বেশি থাকে। যে কারণে দধি বিক্রেতারা সব সময় ব্যস্ত থাকেন দধি তৈরির কাজে। আর বেশ লাভবান হচ্ছেন তারা। তবে এখন শুধু ভোলা, ঢাকা নয় রফতানি হচ্ছে দেশের বাহিরেও বলে দাবী করেন তিনি।

ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান বলেন, ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে অনেক গুলো গরু এবং মহিষের বাতান রয়েছে । এবং সেখান থেকে চুরির অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। ইতি মধ্যেই চোরসহ বেশ কয়েকটি গরু ও মহিষ লক্ষীপুর থেকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এব্যাপারে আমার পুলিশ বিভাগ সচেতন রয়েছে। ভোলার চরাঞ্চলের মহিষের দুধের তৈরি টকদই রফতানি হচ্ছে বিদেশেঅপরদিকে মহিষের রোগবালাই, চিকিৎসাসেবা প্রদান আর মহিষের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার চরাঞ্চলের এসব গবাদীপশুর সেবা ও ঔষধ ঠিক ভাবে দিতে না পারার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে লোকবল সংকটের কথা বলেন। তবে এসব মহিষের দুধের তৈরি টকদধি উৎপাদন করে দেশ ও বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র বিমোচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে পুষ্টির অভাব দূর করে বলে জানালেন।