মেইন ম্যেনু

ভোলায় মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য, নিরব আইনশৃংখলা বাহিনী

ভোলার চরফ্যাশনে ইয়াবা ব্যবসাসহ সকল প্রকার অপকর্মের অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়ে ওঠছে। এমন কোন অপরাধ নেই যে এখানে সংগঠিত হচ্ছে না। গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, চুরি, ডাকাতি, জবর দখল, ছিনতাই, অপহরন, ধর্ষণ, মেয়েদের ছিলতাহানী, জুয়ার আখরা এমনকি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ সকল অপরাধ অহরহ ঘটছে। সাধারন পথচারী থেকে শুরু করে নারীরাও এদের আক্রোশের শিকার হচ্ছে। এই সমস্ত অপরাধীদের কাছে সাধারন মানুষ জিম্মি। এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। এই অপরাধীরা সরকার দলীয় লোক বলে খোদ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও চুপসে থাকে। এদের এই সমস্ত অপরাধের সম্পকে আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। তাই আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার মধ্যে চরফ্যাশন বাজার একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন গ্রাম, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কেনাকাটা করার জন্য আসে। অনেক সময় কেনাকাটা করে রাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। এই সুযোগে অপরাধীরা বিশেষ কায়দায় তাদের সকল কিছু লুটে নেয়। এমনকি গাঁও, গ্রামের মা ও বোনেরা বাজারে এসে এদের হাতে পড়ে হইতে হয় শ্লীতাহানী, যৌন হয়রানী নচেৎ ধর্ষণের মত নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার। মান-ইজ্জতের কথা চিন্তা করে কেউ থানা পুলিশ না করে নিরবে নিবৃত্তে কাদেঁ। চরফ্যাশন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনে বহু নারী, পুরুষ এসে এই সন্ত্রাসীদের খপ্পরে পড়ে সব কিছু হারান বলে একাধিক ভূক্তভোগী জানান। এমন ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।। প্রতিদিন এই অপরাধীরা চরফ্যাশনের প্রধান সড়ক, জনতা রোড, কলেজ রোড, থানা রোড, ডাক বাংলা মার্কেট, ফ্যাশন স্কায়ার, শরীফ পাড়া, ভূমি অফিস ও পৌর ভবনের পিছনে, টি বি স্কুল মাঠ, সাগরী সিনেমা হল, হাসপাতালের পিছনের রোড, চরফ্যাশন কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন ম্পর্টে এই ভয়ংকর অপরাধীদের আখড়া। আইনশৃংখলা বাহিনী কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন বাড়ছে তাদের অপরাধের মাত্র। আর এদের শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। জানা যায়, চরফ্যাশন অপরাধ জগৎতের হোতাদের আক্রোশের শিকার সাংবাদিকেরাও। এরা কয়েকটি সিন্ডিকেটে গড়ে উঠছে, সিন্ডিগেটের সদস্যদের অধিকাংশর বয়স ১৫-৩০ নিচে। অনেক সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরকে এদের মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা যায়। এরা কারা পুলিশ সবই জানে। অবস্থা এমন যে ’পুলিশ-সন্ত্রাসী ভাই ভাই জনগন তোদের রক্ষা নাই। বর্তমানে চরফ্যাশনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক তলানিতে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, লুট-তরাজ, ধর্ষণ, হত্যা. দখল বাজির মত ঘটনা ঘটছেই। এর সাথে বেড়ে গেছে মাদক, মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবার অবাধ বেচাকেনা। মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রন নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অবনতি ঘটছে আইনশৃংখলার । নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে সাধারন জনগন। ধ্বংস হচ্ছে কোমলমতি শিশু ও যুব সমাজ। অথচ এমনটি হওয়ার কথা নয়। । সাধারন জনগনের অভিযোগ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালনের চেয়ে টাকার ধান্দায় ব্যস্ত থাকেন বেশী। এমনও দেখা যায়, আইনশৃংখলা বাহিনীর অফিসার ও সদস্যরা অনেক চিহিৃত সন্ত্রাসীর সঙ্গে আড্ডা দিয়ে থাকেন। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে প্রায় সময় হোটেলে বসে চা-নাস্তা খেতে দেখা যায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের। বিষয়টি এলাকার সুধিজন ও সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। পরিচয় গোপন রেখে চরফ্যানের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই অপরাধী ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের সবাই চেনে। আইনশৃংখলা বাহিনী এদের সম্পর্কে সবকিছু জানে। অথচ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সবকিছু দেখেও যেন না দেখার ভান করে। চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাসার সাথে আলাপ করলে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা একাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালেও তারা জাবিনে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।