মেইন ম্যেনু

ভোলায় রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবব্যের মুল্য বৃদ্ধি

ভোলা জেলা সদর থেকে শুরু করে প্রতিটি উপজেলা শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পেঁয়াজ, রসুন,তৈল, চিনি, সিগারেট ও গোস্তসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। সেন্ডিকেট (মজুদ) দার ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ভাবে কয়েকটি উপজেলা শহরের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, সরকারের পে-স্কেল, রমজান ও বাজেটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়লে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের সেন্ডিকেট মজুদদারী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পেঁয়াজের দাম পূর্বে ছিল ২৫ টাকা, বর্তমানে ৩৫ টাকা, রসুন পূর্বে ছিল ৭৫টাকা বর্তমানে ৮৫ টাকা, ছোলা ৪৫ বর্তমানে ৫৫টাকা ,এ্যাংকর ডাল পূর্বে ৩০ বর্তমান ৪৫ টাকা,তৈল সোয়াবিন পূর্বে ছিল কেজি প্রতি ৫৫ টাকা বর্তমানে ৬৫ টাকা, চিনি ৩০ বর্তমানে ৪০টাকা, সিগারেট প্যাকেট ১৮০ টাকা বর্তমানে ১৯৫ টাকা, গরুর গোস্তের মূল্য পূর্বে ৩০০ টাকা বর্মমানে ৩৫০টাকা, খাসী ৪০০টাকা থেকে ৪৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। মাংশ বাজারে অনেক সময় বকরীকে খাসী বলে সাধারন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে থাকে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যবাসায়ীরা জানান, সিগারেটে সেন্ডিকেট সৃষ্টিকারী কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিগালেট মজুদ রাখছে। পুরাতন কোন খুচরা বিক্রেতাগন গেলে তাদেরকে সিগারেট নেই বলে সাব জানিয়ে দেয়। একই স্টোর থেকে অন্য কাষ্টমার ২০০টাকা দিলেই ভ্যাঞ্চন সিগারেটের প্যাকেট বের করে দেয়। বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনী দ্রব্য মজুদ রেখে দাম বৃদ্ধি করে দিয়েছে।

চরফ্যাশন বাজার মুদি ব্যবসায়ী দুলাল আখন জানান, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার সাধারণ মানুষের পক্ষের সরকার। ব্যবসায়ী ও কৃষক মরে গেছে। এক শ্রেণির অসাধু সেন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এসে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্যে মজুদ রাখছে। আমি কতৃপক্ষের কাছে বিষয়টি মনিটরিং করার দাবী করছি। কেজি প্রতি ৩২টাকার পেয়াজ ৪২ টাকা কেন বিক্রি করা হচ্ছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ব্যবাসায়ীরা এখন একটু চালান ধরতেছে। তিনি আরো জানান, পাশ্ববর্র্তী উপজেলা লালমোহনে এখনও ১৮৫টাকা প্যাকেট চলছে ভ্যাঞ্চন সিগারেট চরফ্যাশন এসে দেখি ২০০টাকা।

বোরহানউদ্দিন পৌর শহরের ব্যবসায়ী আবুল কাসেম জানান, দেশী পেয়াজের চাহিদা বেশী ভারতের পেয়াজের চাহিদা কম হওয়ায় বেশী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ২৪টাকা কেজির পেয়াজ ৪০টাকা প্রশ্ন করলে তিনি এরিয়ে যান আপনী যেমন দেখেন আমিও তেমন দেখি। চরফ্যাশশনের মুদি ব্যবসায়ী আজাদ মিয়া জানান, গত ৩ দিন ধরে আমাদেকে ডিস্টিভিউটর কোন সিগারেট না দেয়ায় আমরা ঢাকা থেকে বেশী মূল্যে ক্রয় করে সিগারেট আনতে হয় এই জন্যে আমরা ভ্যাঞ্চন সিগারেটের প্যাকেট ১৯০টাকায় এনে ২০০টাকা বিক্রি করি।

লালমোহন পৌর শহরের খুচরা বিক্রেতা রায়হান জানান, রমজানের জন্যে ছোলার দাম, বাজেটের জন্যে সিগারেটের দাম এবং পে-স্কেলের জন্য অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। সাধারণ ক্রেতা মোঃ ফারুখ মিয়া বলেন, যে ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে আমাদেরমত খেটে খাওয়া মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সকল চাকুরী জীবিদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি পেলেও সাধারন মানুষের কথা কারো মাথায় নেই।উপজেলা লেভেলে সরকারি ভাবে বাজার মনিটরিং কমিটিও চুপশে রয়েছেন বলে সাধারন ক্রেতাদের অভিযোগ। চরফ্যাশন বাজার ব্যবসায়ী সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, বাজার নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। চিনি, ডাল, পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাজেটের মাসে কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে। এই ব্যপারে ভোলা জেলা প্রসাশক সেলিম রেজা জানান, বিষয়টি মনিটরিং চলছে।